আবু সায়েম
বরেন্দ্রের তিন জেলায় ভূগর্ভস্থর পানি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা।
শুধু খাবার পানি ছাড়া ভূগর্ভস্থ থেকে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তুলে চাষাবাদ বন্ধ না করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাবার পানিরও সংকট দেখা দিবে।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা -(বিএমডিএ)কে সহ ঐ তিন জেলার উল্লেখিত ইউনিয়ন ও মৌজায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।
ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন করে জমি চাষাবাদ করেন কৃষক মনিরুজ্জামান মনির। একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও। মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষিকাজ বন্ধ করে বসে থাকা কোনো সমাধান নয়। এটি সম্ভবও নয়। সমস্যা সমাধানের বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির যে গঠন, তাতে খুব সহজেই ভূ-উপরিস্থ পানির আঁধার তৈরি
করা যাবে। নীতি-নির্ধারকদের সে পথেই হাঁটতে হবে।’
নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চল এমনিতেই ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এখানকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হুমকিতে আছে, এটা আরও হুমকিতে পড়ল পানিসংকটের কারণে। এখান থেকে উত্তরণে সরকারকেই পথ বের করতে হবে।’
বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান। তিনি বলেন, ‘শুধু খাবার পানি তোলা যাবে।
এতে দেখা যাবে বাড়িতে সাবমারসিবল পাম্প বসিয়েই পাইপের মাধ্যমে সেচের পানি দেওয়া হবে। এ অবস্থায় সংকট মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানি নিশ্চিত করতেই কাজ করতে হবে।
এ জন্য পদ্মা নদীর পানি বরেন্দ্র অঞ্চলে ঢোকাতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। এ জন্য কোনো সরকারি পুকুর, খাল-বিল ইজারা দেওয়া যাবে না।
এগুলোর পানি কৃষিকাজের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি পানি কম লাগে বা বৃষ্টির পানিতেই চাষাবাদ সম্ভব, এমন ফসলের চাষাবাদের দিকেই যেতে হবে।
মন্তব্য করুন