জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 31-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তিনি কেবল আপোষহীন নেত্রী নন তিনি অপরাজেয় রানি


মিয়া সুলেমান

কুয়াশায় মোড়া এক শীতল সকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেমেছে গভীর নীরবতা। যে নারী বহু দশক ধরে ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যিনি আপোষহীন নেতৃত্বে হয়ে উঠেছিলেন সময়ের প্রতীক—সেই অপরাজেয় রানির বিদায় যেন একটি যুগের সমাপ্তি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান কেবল একজন রাষ্ট্রনায়কের বিদায় নয়, এটি সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মমর্যাদার এক অধ্যায়ের ইতি। দেশ হারাল তার ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়, আর জাতি হারাল একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে।
“কুয়াশার আড়ালে হঠাৎ নিঃশব্দ বৃষ্টি,
এক যুগের আলো আজ নিভে গেছে।”
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের টালমাটাল সময়ে তিনি রাজনীতির কঠিন ময়দানে পা রেখেছিলেন। ১৯৮১ সালের অস্থির সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে জাতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার যে সাহসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা একজন সাধারণ রাজনীতিকের নয়—তা ছিল একজন রানির দৃঢ় পদচারণা। প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র ও সংকটের মধ্যেও তিনি অবিচল থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৯১ সালে গণরায়ের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, দক্ষিণ এশিয়ার নারী নেতৃত্বের ইতিহাসেও স্থায়ী ছাপ রেখে যান।
“ঝড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক লৌহমানবী,
সময়ও থেমে তাকিয়েছে তাঁর দিকে।”
তার শাসনামলে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ছিল যুগান্তকারী। সংসদীয় ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী উদ্যোগ এবং সামাজিক অগ্রগতির পথে দৃঢ় অঙ্গীকার তাকে আলাদা উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষায় অবৈতনিক সুযোগ ও উপবৃত্তি কর্মসূচি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক সাহসী বিনিয়োগ—যা একজন দূরদর্শী শাসকের পরিচয় বহন করে।
“শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে,
একটি জাতি নিজের পথ খুঁজেছিল।”
ব্যক্তিত্বে তিনি ছিলেন দৃঢ় অথচ সংযত। রাজনীতির রূঢ় বাস্তবতায় থেকেও তার আচরণে ছিল নীরব সৌম্যতা, কণ্ঠে সংযম, আর সিদ্ধান্তে আপসহীন দৃঢ়তা। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, ব্যক্তিগত বেদনা ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন এক নীরব প্রহরী—যিনি ইতিহাসের ভার বহন করেও পরাজয় মানেননি।
“নীরবতাও কথা বলে,
যখন সাহসই হয়ে ওঠে ইতিহাস।”
আজ এই বিদায়ের ক্ষণে রাজনৈতিক বিভাজন স্তব্ধ। দল-মত নির্বিশেষে জাতি উপলব্ধি করছে—তিনি কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের এক অনমনীয় অভিভাবক। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সংগ্রাম ও আপোষহীন নেতৃত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
“কিছু মানুষ বিদায় নেন না,
তারা কেবল কিংবদন্তি হয়ে যান।”
বেগম খালেদা জিয়া—একটি নাম নয়, একটি অধ্যায়। তিনি কেবল আপোষহীন নেত্রী নন—তিনি অপরাজেয় রানি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বৃহত্তর সুন্নী জোটের

1

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন গাজীপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল

2

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জের আজমতপুর সীমান্তে নেশাজাতীয় ট্যাবল

3

ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে বড় ভাই খুন

4

শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি শহিদ রাকিবুলের বাবা-মা

5

ধরা-ছোঁয়ার বাইরে বান্দরবানের ফ্যাসিস্ট সাম্রাজ্য

6

বিরলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ জনের কারাদণ্ড

7

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে দুদকের অভিযান

8

সুবর্ণচরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা

9

কারাগারে বিএনপি কর্মির মৃত্যু, গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের অভি

10

জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে পাঁচবিবি পাঁ

11

সমাজ শুধু শিক্ষকের ছুটি দেখে, পরিশ্রম দেখে না

12

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ

13

শীতের রাতে ঘুমন্ত শিশুদের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দিল ডিমলা উপজেলা

14

অতিরিক্ত লোডে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পাটবোঝাই ট্রাকে আগুন

15

সমস্ত দলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ

16

কলমাকান্দায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনু

17

চান্দিনায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্ম

18

কিশোরকণ্ঠ বৃত্তি পুরস্কার পেল তানোর–মোহনপুর

19

দারুল ইরফান একাডেমিতে ২ দিনব্যাপী ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিত

20