মিয়া সুলেমান
দীর্ঘ ১,৫১,৫৩৬ ঘণ্টা পর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে স্বপরিবারে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতির পর বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে আবার যাত্রা করে। ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে বরণ করে নেন।
বিমানবন্দর থেকে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’র সংবর্ধনা মঞ্চে যাওয়ার পথে বাসে করেই যাত্রা করেন তারেক রহমান। বাসটির সামনে লেখা ছিল—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এ সময় বাসের ভেতর থেকে তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।
রাজধানীর ব্যস্ত রাজপথের দু’পাশে ছিল মানুষের ঢল—হাত নেড়ে অভিবাদন, চোখে আশা আর মুখে উচ্ছ্বাস। ঠিক সেই মুহূর্তে গাড়ির জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান জনতার উদ্দেশে হাত তুলে অভিবাদন জানান। তার সেই ভঙ্গিতে ছিল না কোনো দূরত্ব; ছিল কৃতজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি ও নিয়ন্ত্রিত চলাচলের মাঝেও জনতার আবেগ চাপা পড়েনি। বরং এই শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশই বলে দেয়—এটি কেবল একটি যাত্রা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষের চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল প্রত্যাশা—তারা নিজেদের একজন নেতাকেই দেখছে, যিনি তাদের কথা শোনেন, তাদের অনুভূতি বোঝেন।
এই দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দেয়, নেতৃত্ব মানে কেবল ক্ষমতার অবস্থান নয়; নেতৃত্ব মানে মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ। বাস থেকে হাত তুলে দেওয়া সেই অভিবাদন যেন হাজারো কণ্ঠের অনুভূতিকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে। এটি ছিল আশার ছবি, ঐক্যের ছবি এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের ছবি।
এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে—যেখানে মানুষের ভালোবাসা থাকে, সেখানেই ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বাস জন্ম নেয়।
মন্তব্য করুন