ইব্রাহিম বাদশা
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর এলাকায় সিনিয়র–জুনিয়র সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য ও মাদ্রাসা ছাত্র তাহমিদ উল্যাহ (১৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হাওয়া ভবন সংলগ্ন জামালপুর সড়কের তিন রাস্তার মাথায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কদমতলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য মো. তাহমিদ উল্যাহকে (১৮) অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে তাহমিদ উল্যাহ মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতের কপালের বাম পাশ থেকে চোখ ও নাক পর্যন্ত, মাথার পেছনে ও পিঠের ডান পাশে গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা জোহরা বেগম বাদী হয়ে ১২ ডিসেম্বর রাতে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনের নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন তাজপুর এলাকা থেকে মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে চাকমা জাহিদ (২০) নামে এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. জাহিদুল ইসলাম ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচিত বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যে বারইয়ারহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় রবিউল হক সওদাগরের বাড়ির সামনের পানির ড্রেন থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন