সানজিদুল হক
ঐতিহ্যবাহী কপতাক্ষ নদে বহুদিন পর দেখা মিলেছে ভারী মালবাহী একটি কারগো নৌযানের। সিলেটের সুরমা নদী থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট পাথর বহন করে টানা দশ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে নৌযানটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মাঝিয়ারা মোড় কপতাক্ষ নদপাড়ে এসে নোঙর করেছে। বর্তমানে সেখানে নদীর পাশে পাথরগুলো আনলোড (আপলোড) করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এসব পাথর নদী সংস্কারের বোলাক নির্মাণের কাজে ব্যবহার হবে।
ঐতিহ্য হারানো কপতাক্ষ নদদীর্ঘ শতাব্দী ধরে কপতাক্ষ নদ ছিল দক্ষিণ–পশ্চিম অঞ্চলের বাণিজ্য, কৃষি ও নৌপথের প্রধান রক্তধারা। একসময় এ নদীতে জাহাজ, লঞ্চ ও স্টিমারের নিয়মিত চলাচল ছিল। কিন্তু বছর বছর পলি জমে নদীর প্রশস্ততা কমে আসতে শুরু করে; নাব্যতা হারিয়ে নদী প্রায় অদৃশ্য হওয়ার পথে।
কারগো নোঙরে স্থানীয়দের ভিড়মাঝিয়ারা মোড়ে কারগো আসার খবরে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতে থাকে আশপাশের মানুষ। তারা বলেন—
“যে নদীতে একসময় স্টিমার চলতো, সেখানে আবার বড় নৌযান দেখাটা আনন্দের। হয়তো নদী আবার বাঁচবে।”
খনন হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি
স্থানীয়দের অভিযোগ, কপতাক্ষ নদ বারবার খনন করা হলেও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় নাব্যতা টেকেনি। ফলে নদী আবার ভরাট হতে থাকে।
নদী সংস্কারে নতুন উদ্যোগপানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সুরমা থেকে আনা এ পাথরগুলো দিয়ে নদীতীর রক্ষা, বোলাক নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ স্থায়ীভাবে ধরে রাখার কাজ করা হবে।তাদের দাবি—“এই প্রকল্প শেষ হলে কপতাক্ষ নদ তার হারানো ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ ফিরে পাবে।”
নদীপাড়ের মানুষের আশা তালা উপজেলার মাঝিয়ারা, কুমিরা, খলিলনগরসহ আশপাশের মানুষ এ উদ্যোগকে নদী পুনরুজ্জীবনের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাদের বিশ্বাস—“কপতাক্ষের পুনর্জাগরণ হলে কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।”