জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 8-জানুয়ারী-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ইমতিয়াজের লাশ ১৭ মাস পর উত্তোলন

শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী সংবাদদাতা



নোয়াখালীর চাটখিলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ইমতিয়াজ হোসেন (২২) নামে এক তরুণের লাশ (হাড়গোড়) ১৭ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার হাট পুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলনের করা হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমতিয়াজ ঢাকায় মারা যান। পরে সেদিন রাতেই তাকে দাফন করা হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ইমতিয়াজ চাটখিল পৌরবাজারের জনতার আনন্দ মিছিলে অংশ নেয়। ওই সময় চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। থানার অস্ত্র লুটের কিছু সময় পর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় ইমতিয়াজ। পরবর্তীতে ঢাকার একটি হাসপাতালে সে মারা যায়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন। এমন অভিযোগে গত ২২ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহীম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এই মামলার তদন্তের প্রয়োজনেই আদালতের আদেশে আজ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

লাশ তোলার সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। 

ইমতিয়াজের বাবা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমার ছেলে জুলাই যোদ্ধা। সে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। আমার ছেলে ৫ আগস্ট আমার সাথে বিজয় মিছিলে যায়। আমার ছেলেকে সেদিন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোনাফ বলেন, আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের প্রায় ২ মাস পর ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমান ছেলেকে জুলাই শহীদের স্বীকৃতির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তার পরবর্তীতে আবারও ইমতিয়াজের জুলাই শহীদের স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভোলা বোরহানউদ্দিনে টবগী ইউনিয়ন বিএনপি ও মহিলা দলের মতবিনিময়

1

বান্দরবানের ৩০০ নং সংসদীয় আসনে জরুরী ঘোষণা

2

চরভদ্রাসনে কিশোরী কে অপহরণ করতে সন্ত্রাসী হামলা

3

কৃষকের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গজারিয়ায় প্রশাসন–কৃষক সংলাপ

4

নাসিরনগরে যৌথবাহিনীর অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

5

আলীকদমে ম্রোদের ওপর হামলাকারী ’বাইট্টা জাফর’ সেনাবাহিনীর অভি

6

মুক্তিযুদ্ধই আমাদের ভিত্তি একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্

7

মাদারীপুরে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

8

কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেন গ্রেপ্তার

9

এবার আমরা ভোট করবো সত্যের পক্ষে জি কে,গউছ

10

একনেকে অনুমোদন পেল নোবিপ্রবির ৩৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প

11

কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মনোনয়ন

12

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিস্ফোরক ও একাধিক মামলার আসামী

13

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব কবির আহমে

14

কাপাসিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিক

15

চকরিয়ায় গ্রামীণ ব্যাংক কেন্দ্র প্রধান কর্মশালা ২০২৫ অনুষ্

16

লাউয়াছড়ায় রেললাইনের স্পিপারফেলে ট্রেন দুর্ঘটনার চেষ্টা দুর্ব

17

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে এক নারীকে ধর্ষণ -২ আনসার সদস্য গ্রেফ

18

শহীদ ওসমান হাদী আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা:

19

ক্রিকেট যখন রাজনীতির সমীকরণে

20