মোহাম্মদ আলী মাস্টার সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ৪টি এস এস সি পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবগণ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ওয়েব সাইড থেকে জানতে পারে কেন্দ্র বিদ্যালয় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, কেন্দ্র বিদ্যালয় শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, কেন্দ্র বিদ্যালয় অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং কেন্দ্র বিদ্যালয় সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসন বিন্যাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এটাকে কেন্দ্র করে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী,ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজনের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় এলাকায় বারবার মানববন্ধন, সভা সমাবেশ চলমান রয়েছে।
বিগত সময়ে কেন্দ্র বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা নিকটবর্তী প্রাথমিক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ভেন্যুতে পরীক্ষা দিতো। চলতি বছরে ভেন্যু পদ্ধতি বাতিল করে কেন্দ্র বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের নিকটবর্তী পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের বিধান করায় এসমস্যাটি প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
এতে করে শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা হাইওয়ে রোড পেরিয়ে শাহবাজপুর থেকে কুট্রাপাড়া মোড়, কুট্রাপাড়া মোড় থেকে সরাইলে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিয়ে এসে পরীক্ষা দিতে হবে, এতে করে যানজট এবং দুর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে পরীক্ষার্থীদের কমপক্ষে দুই /তিন ঘন্টা পূর্বে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রওয়ানা দিতে হবে। একই অবস্থা সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে।
অপর দিকে অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত পরীক্ষার্থীরা ভাঙাচুরা দুর্গম প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে তাদেরকে পাকশিমুল, ভুইশ্বর, চুন্টা, রসুলপুর হয়ে সরাইল এসে পরীক্ষা দিতে হবে।
সমস্যা নেই শুধু সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের। তাদের নিকটবর্তী কেন্দ্র সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় ২ শত গজের মধ্যেই তারা পরীক্ষা দিতে পারবে।
বিশেষ করে তিনটি কেন্দ্রে কয়েকশত পরীক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুধীমহল, অংশীজন বোর্ডের এই হঠকারী এবং অমানবিক সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়ে হতবাক এবং স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে সরাইল অন্নদা, অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজার হাজার অভিভাবক, ছাত্র ছাত্রী জনতা বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পূর্বের নিয়মে ফিরে আসার জন্য নিমিত্তে প্রতিবাদসহ মানববন্ধন করেছে । জানা গেছে, এই তিনটি কেন্দ্রের পক্ষথেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে বাধ্য হয়ে অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী, রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও বৃহত্তর জনসমষ্টি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রয়োজনে ঢাকা সিলেট, ঢাকা চট্রগ্রাম, ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রোডে অবরোধ অবস্থান করে অধিকার আদায় করে নেবে বলে ভুক্তভোগীরা ইনকিলাবকে জানান। অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব শেখ সাদী জানান, কেন্দ্রের শুরুথেকেই পরীক্ষার্থীরা আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ ভেন্যতে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল, বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে, কমপক্ষে দুই/তিন ঘন্টা পূর্বে দুর্গম পথে তাদের রওয়ানা দিতে হবে, এলাকাবাসীর দাবি পূর্বের ন্যায় কলেজ ভেন্যুতে পরীক্ষা নেওয়া হউক। শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ আলী মাস্টার জানান, বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সংলগ্ন শাহবাজপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভেন্যুতে পরীক্ষা দিতো, বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে পরীক্ষার্থীরা জীবন মরণের ঝুঁকি নিয়ে দুইধাপে প্রায় ১০ কিলোমিটার হাইওয়ে রোড পেরিয়ে পরীক্ষা দিতে সরাইল যেতে হবে, এটা পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বড়ই দুঃসংবাদ। অতীতের ন্যায় ভেন্যু কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়া হলে সকলের জন্য সুবিধা ও মঙ্গল হবে। সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব দেবব্রত দাস বলেন ১৯৮৩ সাল থেকে আমাদের পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সংলগ্ন আলীয়া মাদ্রাসা ভেন্যুতে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল, কেন্দ্র পরিবর্তনে সরাইলে পরীক্ষার্থী অভিভাবক ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেছে। অভিভাবকরা পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শাহবাজপুর যেতে রাজি হচ্ছে না।
অভিভাবক হাসান আলী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, যানজটে হাইওয়ে রোড পেরিয়ে আমার ছেলে সরাইল গিয়ে পরীক্ষা দিলে পরীক্ষাকালীন সময় তার আর পড়াশোনা হবেনা। নিশ্চিত ফলাফল খারাপ হবে,কারণ মৃত্যুর ঝুঁকিতো আছেই, এছাড়া যাতায়াতে ৪/৫ ঘন্টা এমনিতে চলে যাবে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ইনকিলাবকে জানান, এবিষয়টি আমাদের একক সিদ্ধান্ত নয়।
অভিভাবক কুদরত আলী বলেন, অরুয়াইল থেকে সরাইল গিয়ে পরীক্ষা দিলে রাস্তার দুর্দশায় পরীক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়বে, এক,দুটো পরীক্ষা দিয়ে আর পরীক্ষা দেওয়ার সাহস তাদের থাকবেনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি অবহিত আছেন বলে জানান। তিনি এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন।