শ্রী পবিত্র কুমার দাস
নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে সারা দেশে যখন নবান্নের উৎসবের আমেজ, তখন দুপচাঁচিয়ায় যোগ হয়েছে আরও এক বিশেষ রঙ—ঐতিহ্যবাহী বড় মাছের মেলা। কৃষিনির্ভর মানুষের মনে নবান্ন মানেই আনন্দ, নতুন ধান, আর ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি।
এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নানা আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বড় মাছ ও সবজি কিনে নবান্ন উদযাপন করে থাকেন।
এ উপলক্ষে সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত থেকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী দুপচাঁচিয়ার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড মাছবাজার এলাকায় বসে বিশাল মাছের মেলা। রাত ৮টা থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে সারি সারি পিকআপ, ভটভটি ও ট্রাকে করে আনা হয় বড় আকারের জীবন্ত মাছ। রুই, কাতলা, চিতল, পাঙ্গাশসহ দেশি-বড় মাছের বিশাল সমারোহে জমে ওঠে পুরো এলাকা। দূর থেকেই ভেসে আসে মানুষের কোলাহল, আর কাছে যেতেই শোনা যায় মাছ বিক্রেতাদের হাঁকডাক—মেলায় যে উৎসবের আমেজ, তা উপচে পড়ে ভিড়ের চাপে।
রাতভর মাছ ওঠা-নামা এবং মঙ্গলবার পুরোদিন চলে মাছ কেনা-বেচা।
স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মেলা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রতি বছর নবান্নকে কেন্দ্র করে এখানে প্রচুর পরিমাণ মাছের সরবরাহ হয় এবং বেচা-বিক্রিও চলে বেশ জমজমাটভাবে। দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ৎ-এর পরিচালক উমর ফারুকের জানান,“নবান্নের এ মেলায় প্রতিবছর প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। এবারও মাছের আমদানি প্রচুর হবে বলে আশা করছি। দামও থাকবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই।
”মেলায় নিরাপত্তা ও সংগঠনের বিষয়ে কথা হয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আলম মৎস্য আড়ৎ-এর পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক আলম বলেন,
“এই বাজারে পাঁচটি মাছের আড়ৎ রয়েছে। বহু বছর ধরে নবান্ন উপলক্ষে এখানে বড় মাছের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় মাছ বাজারে ওঠে।
সমিতির পক্ষ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা রাখা হয়।
”নবান্নকে কেন্দ্র করে দুপচাঁচিয়ার এই বড় মাছের মেলা শুধু কেনাবেচার উৎসব নয়, এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল অংশ। প্রতি বছর এ মেলা ঘিরে মানুষের মাঝে তৈরি হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বিশেষ পরিবেশ—যার রেশ থেকে যায় নবান্নের পরও।
মন্তব্য করুন