জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 4-নভেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সেনা ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা

 মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক 
তিন পার্বত্য জেলার রাজনীতিবিদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করা বাঙালিরা। ‘অশান্ত পাহাড় সার্বভৌমত্বের হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি জানান তাঁরা।

গত কাল ০২ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সাবেক সেনা কর্মকর্তারাসহ রাজনীতিবিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রোকন উদ্দিন বলেন, দেশের এক ইঞ্চি পরিমাণ জায়গাও যাতে হাতছাড়া না হয়, সে জন্য এবং পার্বত্য এলাকার যত জনগণ আছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প রাখতে হবে।

একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার দেশ যদি সুরক্ষিত না থাকে, দেশের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে কিসের গণভোট আর কিসের নির্বাচন? সব দুর্যোগের সময় আপনাদের পাশে যে সেনাবাহিনী দাঁড়ায়, সেই সেনাবাহিনীর প্রতি এত এত অবহেলা কেন? একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, কারণ, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে এই সরকার দারুণভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। তো আমার অনুরোধ থাকবে, সরকার এদিকে খেয়াল দেবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোনো অবহেলা করা যাবে না। ওখানে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য যা প্রয়োজন, ক্যাম্প বাড়ানো, সেনা বাড়ানো; তা করতে হবে। এখানে কোনো রাজনৈতিক খেলা চলবে না।’

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিং মং শাক বলেন, ‘আমাদের এই পাহাড়ে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাইয়েরা যেমন শহীদ হন, আবার একইভাবে বাংলাদেশের নাগরিক বাঙালি, অবাঙালিরাও শহীদ হন। আমরা কেন সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে যাচ্ছি, এই রাষ্ট্র কী করেছে এত বছর?’

পাহাড়ে নিরাপত্তার জন্য সেনা ক্যাম্প বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে থোয়াই চিং মং শাক বলেন, ‘আমাদের দাবি দুটি দাবি হচ্ছে ১৯০০ সালে পাহাড় নিয়ে করা ব্রিটিশ আইন বাতিল করতে হবে। কারণ, পাহাড়ে বাঙালি ও অবাঙালিদের ভেতর দ্বন্ধ-সংঘাত, অবিশ্বাস তৈরির জন্য দায়ী এই আইন। দ্বিতীয়ত ১৯৮৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিষদ যে আইন রয়েছে, এই আইনকেও বাতিল করতে হবে। কারণ, এই আইনের মাধ্যমে আমরা এখনো বিভাজিত হয়ে আছি।’ উপজাতি, আদিবাসী, সেটেলার ইত্যাদি শব্দগুলো বাদ দিয়ে বাঙালি, অবাঙালি বলার আহ্বান জানান সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিং মং শাক।

সাবেক মেজর ও জনতার দলের মুখপাত্র দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘ইন্ডিয়ায় এই মুহূর্তে সাতটা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে, তারা নিজেদের আন্দোলন দমানোর জন্য প্রচণ্ড রকম কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর একই সঙ্গে বাংলাদেশেও যেন একটা এ রকম বিচ্ছিন্নতাবাদী গন্ডগোল চলতে থাকে, সে জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে নানা কাণ্ড করছে। ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, আজও সীমান্তের ওপারে কিছু এনজিও ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যা ক্রস বর্ডার হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার এর আধুনিক রূপ।...আমাদের সার্বভৌমত্বের এই দুর্বল অংশ বা সফট ভালনারেবিলিটি যেটা আছে, এটাকে এখনই যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ আসতে যাচ্ছে।’

গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, ‘আমি রীতিমতো বাকরুদ্ধ, কীভাবে পাহাড় থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের কথা চিন্তা করেন? যেখানে সেনা ক্যাম্প আরও বাড়ানো দরকার, সেখানে তারা সেনা ক্যাম্পগুলো প্রত্যাহার করছে। আমি আজ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আহ্বান জানাব যে আপনি অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের এই পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প নয়, আমরা সেখানে স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট চাই। সেখানে ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করতে হবে। এখানে কোনো ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ, আমেরিকান আধিপত্যবাদ, পাশ্চাত্যের কোনো আধিপত্যবাদ এই বাংলার মাটিতে চলতে পারে না।’

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান একটি ভিডিও উপস্থাপন করেন। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নানা ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘পাহাড়ে সেনাসদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করে যান। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হন। পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অথচ তাঁদের জন্য হিল ভাতা মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। পৃথিবীর কোনো সেনাবাহিনীতে এমন অবমূল্যায়ন নেই। আমরা অবিলম্বে পাহাড়ে দায়িত্ব পালন করা সেনাসদস্যদের জন্য হিল ভাতা বাড়ানোর দাবি জানাই।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের মহাসচিব মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে আমাদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক বলে। সেখানে আমাদের কোনো শ্রেণি বলতে নেই। সেখানে উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন আর পার্বত্য মন্ত্রী বলেন বা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সব জায়গায় হেডম্যান কারবারি তাদের বসিয়ে রেখে আমাদের সেখানে শাসন আর শোষণের হাতিয়ার বানিয়েছে। সেখানে অবাঙালি উপজাতি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা লোকজন ব্যবসা করলে কোনো কর দিতে হয় না, আর আমাদের সেখানে কর দিতে হয়। অর্থাৎ আমাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মনোনয়নের মহাকাব্য ক্ষোভের আগুনে অন্তর্দ্বন্দ্ব আগুনের মতো অস

1

ঢাকাস্থ কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

2

পরকীয়া সুনিশ্চিত নিরাপত্তাশীল বাসায়

3

ভেজাল গুড়ের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়

4

ভাঙ্গুড়ায় সন্ধ্যা রাতে কৃষকের একটি ষাঁড় গরু চুরি, এলাকায়

5

ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম

6

রায়গঞ্জের ক্ষিরতলায় যুবসমাজের উদ্যোগে ১৭ তম তাফসিরুল কুরআন

7

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির ভরসা ক্লিন ইমেজ প্রার্থী সরওয়ার জা

8

প্রায় ২২ কোটি টাকার মাদক জব্দ

9

নাসির নগরে কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু

10

রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান

11

কিশোরগঞ্জ -১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পূণঃবিবেচনার দাবিতে হ

12

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে টনকী বাজারের প্রতিটি দোকানে কালো পতাকা

13

আরিফুজ্জামান(মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়

14

সুন্দরবনে কাকঁড়া ও মাছ শিকারের সময় তিনজন জেলে আটক

15

কয়রায় আট দলীয় জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে কেএম বিজয়ী

16

ধর্মপাশায় কৃষকের সবজি ক্ষেত নষ্ট করলো দুর্বৃত্তরা

17

বগুড়ার শেরপুরে সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি

18

শ্যামা পূজা, ব্যস্ততায় সময় কেটেছে মৃৎশিল্পী ও আয়োজকদের

19

আওয়ামী সরকারের আমলে পিতৃহারা কন্যার আকুতিতে কাঁদলেন তারেক রহ

20