মেহেদী হাসান হাবিব
সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির চাল গরিবের পেটে না গিয়ে যাচ্ছে কালোবাজারে। জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ২ নং কুলিয়া ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এই চাল আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ভিজিডি (VGD) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী ব্যক্তিদের মাঝে চাল বিতরণের কথা থাকলেও অনেক প্রকৃত সুবিধাভোগী চাল পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে যে, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে অনেক মৃত ব্যক্তি বা প্রবাসীদের নামেও চাল উত্তোলন করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
কুলিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের এক ভুক্তভোগী বলেন, "আমার নামে কার্ড আছে কিন্তু গত কয় মাস ধরে আমি কোনো চাল পাইনি। মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তারা শুধু আজ-কাল বলে ঘুরায়। অথচ পাশের গুদাম থেকে চাল রাতে ট্রলিতে করে বাইরে চলে যায়।"
দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে ২ নং কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পেনেলচেয়ারম্যান আবুহুরাইরা (হুরাই) অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, "চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে । এই বিষয় নিয়ে তদন্ত করে যে বা যাহারা চাউল সিন্ডিকেট সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্তা নিবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেছেন, একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
এই ঘটনার পর থেকে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চাল চুরির বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। দ্রুত এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত গরিবদের মাঝে চাল ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন