মুজাদ্দেত হোসেন রবিন
জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সাম্প্রতিক জোট গঠন নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। ঢাকায় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা আঁতাত করলে এনসিপিকে ভবিষ্যতে ‘কঠিন মূল্য’ দিতে হতে পারে।
রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সাক্ষাৎকারে সামান্তা শারমিন বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সাধারণ মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম উগ্রবাদ বা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপরীতে একটি স্বচ্ছ ও উদারপন্থী ধারার প্রত্যাশা করছে। এমন অবস্থায় এনসিপি যদি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়, তবে তারা বড় ধরনের জনবিচ্ছিন্নতায় পড়তে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন:
জনমতের প্রতিফলন সাধারণ ভোটাররা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনীতির মেরুকরণ পর্যবেক্ষণ করছে।
আন্তর্জাতিক চাপ জামায়াতের মতো দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে আন্তর্জাতিক মহলেও এনসিপির গ্রহণযোগ্যতা সংকটে পড়তে পারে।
আদর্শিক বিচ্যুতি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় যেতে হলে এনসিপিকে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়াতে হবে, অন্য কোনো বিতর্কিত শক্তির ওপর ভর করে নয়।
‘কঠিন মূল্য’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
সামান্তা শারমিনের মতে, এই ‘মূল্য’ কেবল ভোটের হিসেবে নয়, বরং দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভাবমূর্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা এনসিপির ভেতরকার উদারপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দলকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি বলেন, "রাজনীতিতে কৌশল থাকা ভালো, কিন্তু সেই কৌশল যদি আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে হয়, তবে তা হিতে বিপরীত হয়। এনসিপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি স্বল্পমেয়াদী সুবিধা চায়, নাকি দীর্ঘমেয়াদী রাজত্ব।"
তার এই মন্তব্য ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন