হুসাইন আল পিয়েল
গাজীপুরে গত দেড় দশকে বিবাহ বিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত আনুমানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
প্রতি ১০০টি বিয়ের বিপরীতে ডিভোর্সের হার বেড়ে ৫ শতাংশ থেকে প্রায়
২০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সমাজে পারিবারিক স্থিতিশীলতা
নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগে যেখানে প্রতি ১০০টি বিয়েতে গড়ে ৫–৬টি বিচ্ছেদের
ঘটনা ঘটত, সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা চার গুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই হার তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিচ্ছেদের
পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
অর্থনৈতিক চাপ ও বেকারত্ব, স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার
অভাব,পারিবারিক হস্তক্ষেপ ও যৌথ পরিবারের দ্বন্দ্ব ,মোবাইল
এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার ।
সন্দেহ, অবিশ্বাস ও মানসিক দূরত্ব,অপরিপক্ব বয়সে বিয়ে ও মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতি ।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচ্ছেদের জন্য এককভাবে নারী বা পুরুষ কাউকেই
দায়ী করা যায় না; এটি একটি দ্বিপাক্ষিক সামাজিক ও মানসিক সংকটের ফল।
একজন মনোবিশেষজ্ঞ জানান, “ডিভোর্স নিজেই কোনো অপরাধ নয়,
কিন্তু যখন তা মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ে, তখন সেটি একটি সামাজিক সতর্ক
সংকেত হয়ে দাঁড়ায়।”
মন্তব্য করুন