জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার করা মামলার জেরে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম গ্রেপ্তার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ নভেম্বর মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মোজাম্মেল হকের ওপর হামলার অভিযোগে ১৪ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের পর হাসপাতালের একমাত্র নিরাপত্তাকর্মী শাকিল আহম্মেদকে আটক করলে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়—শিশু, অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি, সার্জারি ও এনসিডি কর্নারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ ফাঁকা। মেডিকেল অফিসারের কক্ষেও চিকিৎসক অনুপস্থিত। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিশুদের টিকা নিতে আসা মায়েরা। ইপিআই টেকনোলজিস্ট ইলিয়াস খান গ্রেপ্তার আতঙ্কে কক্ষে না থাকায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর অনেকে টিকা না নিয়েই ফিরে যান।
আরএমও ডা. সুমাইয়া হোসেন লিয়া জানান, স্টাফরা সবাই আতঙ্কে থাকায় কিছু বিভাগের কাজ ব্যাহত হলেও ইমার্জেন্সি খোলা আছে। তিনিও শুনেছেন যে মামলায় তার নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ডা. জাকির হোসাইন বলেন, “ঘটনা ঘটেছে হাসপাতালের বাইরে। আমাদের কেউ জড়িত ছিল না। তবুও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।” বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান, ভিডিও ফুটেজসহ সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নির্দোষ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।