মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
ঘাটাইল উপজেলার কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার না পেয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহের কথা থাকলেও খুচরা ডিলারদের ভাগ্যে মিলছে না বরাদ্দের সার। অন্যদিকে, একই সার পাওয়া যাচ্ছে গোপন গুদামে—দ্বিগুণ দামে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন) এর ১৮ জন ও বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) এর ২০ জন ডিলার রয়েছেন। তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী সার খুচরা ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। অধিকাংশ খুচরা ডিলার অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর তারা সরকারিভাবে এক ছটাক সারও পাননি। ফলে কৃষকদের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা বেসরকারি উৎস থেকে দ্বিগুণ দামে সার কিনছেন।
সাগরদীঘি ইউনিয়নের রাজীব এন্টারপ্রাইজ নামে বিসিআইসি ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজীব সাহা ও তার ভাই সঞ্জয় সাহার বিরুদ্ধে ১৬ জন খুচরা ব্যবসায়ী উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা বরাদ্দের সার গোপন গুদামে মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। একইসঙ্গে অনুমোদনহীন ভেজাল কীটনাশক বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
সাগরদীঘি বাজারের খুচরা ডিলার আশোক চন্দ্র মণ্ডল বলেন,
“সাত বছরে মাত্র একবার ইউরিয়া পেয়েছি, অন্য কোনো সার পাইনি।”
আরেক ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন,
“ছয় বছরে এক ছটাক সারও পাইনি। বরাদ্দের সার ঘরে রেখেও রাজীব সাহা দেন না। উল্টো বেশি দামে ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বিক্রি করেন।”
অভিযুক্ত রাজীব সাহা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি বাইরে কোথাও সার বিক্রি করি না, আর কোনো গোপন গুদামও নেই।”
স্থানীয় কৃষক রাজিবুল ইসলাম বলেন,
“দোকানে গেলে বলে সার নাই, কিন্তু গোপন গুদামে গেলে পাওয়া যায়—দাম দ্বিগুণ।”
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাগরদীঘি বাজারের বিএডিসি ডিলার মর্তুজ আলীর গুদাম থেকে টিএসপি সার বিক্রি হচ্ছিল প্রতি বস্তা ২,৪৮০ টাকায়—যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য মাত্র ১,৩৫০ টাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সরকারি দরে সার কিনতে পারলে প্রতি মাসে ১৫–২০ লাখ টাকা সাশ্রয় হতো তাদের। কিন্তু তদারকির অভাবে সেই সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন,
“উপজেলায় সারের সংকট নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান,
“সংকটের কথা বিবেচনায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। খুচরা ডিলারদের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মন্তব্য করুন