ফয়সাল আহমেদ শাকিল
ঈশ্বরগঞ্জে মাত্রাহীনভাবে বেড়ে উঠছে সংঘবদ্ধ বিকাশ প্রতারক চক্র। অভিনব কায়দায় সাধারণ মানুষকে পুলিশের ভয় এবং অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার নাটক সাজিয়ে চক্ররা হাতিয়ে নিচ্ছে কারো কারো জীবনের সঞ্চয়। প্রতারণার এই 'মহোৎসবে' নিঃস্ব হচ্ছেন সহজ-সরল বিকাশ গ্রাহকরা।
প্রতারকরা সাধারণত ২ ধরণের কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। ফোন করে নিজেদের এসআই বা পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানায়, “আপনার ভাতিজা মাদকসহ ধরা পড়েছে। মামলা এড়াতে ১৫ হাজার টাকা পাঠান।” এই ফাঁদে পড়ে উপজেলা ছাত্রদল নেতা জিকরুল হাসান জিকু ১৩ হাজার টাকা খুইয়েছেন।
অপরদিকে নিজেদের বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলা হয়, “আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে। এখনই কোড অথবা ১৫ হাজার টাকা জমা দিন।” এই কৌশলে পৌর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা আক্তারের ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। একই কৌশলে উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের মর্জিনা খাতুন তার ভাইয়ের পাঠানো ৫ হাজার টাকা এবং পরে আরও ১৫ হাজার টাকা খুইয়েছেন।
স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট আজহারুল ইসলাম জানান, এটি অত্যন্ত সংগঠিত একটি ফ্রড চক্র। একদল দোকানে কাস্টমার সেজে দাঁড়িয়ে থাকে, কারা কত টাকা লেনদেন করছে তার তথ্য সংগ্রহ করে। তারপর অন্য দল সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বা বিকাশ অফিস পরিচয় দিয়ে ফোন করে প্রতারণা করে চলেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি, ওবায়দুর রহমান জানান, প্রতারকরা গরিব মানুষের ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করে সিম কিনছে। এবং তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো ভয়ভীতি বা সহানুভূতিতে কোনো টাকা লেনদেন করবেন না।