আকন মুহাম্মদ রাসেল
বরগুনার তালতলীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে (স্কুল টাইমে) আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং আওয়ামী পন্থী প্রধান শিক্ষকদের প্রথম সারিতে বসিয়ে, তাদের নেতৃত্বে এটিও মোসাঃ সারাহ্ সুলতানাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) মো. আল-আমিন এবং শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল বাশার স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, তালতলী উপজেলায় দায়িত্ব অবহেলার একাধিক অভিযোগ থাকা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) মোসাঃ সারাহ্ সুলতানার বরগুনা সদর উপজেলায় বদলী হয়। তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে রোববার (২৬ অক্টোবর ২৫) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সৈকত সম্মেলন কক্ষে এ বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং কিছু সংখ্যক সহকারী শিক্ষক দেখা যায়। তবে জানা গেছে, প্রথম সারিতে বসে বিদায়ী সংবর্ধনার নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান শিক্ষকগণ স্কুল ফাঁকিবাজ এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দোসর। এদের মধ্যে অন্যতম সওদাগর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.কামাল মীর এবং আগাঁ ঠাকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং আওয়ামী দোসর মো. ইউনুস আলী। তারা আওয়ামী লীগের দাপটে প্রতিষ্ঠান চলাকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বসে দালালী করতেন এবং এখনও সব সময় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আল-আমিনকে সঙ্গ দেয়।
তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল বাশার বলেন, আমাদের পরীক্ষার মিটিং ছিলো, একই সাথে সংবর্ধনার কাজটাও সেড়ে ফেলেছি। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১১ টায় শুরু হওয়া সংবর্ধনা ২ টা বাজে শেষ হয়েছে এবং সিংহভাগ শিক্ষক তখনই উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করেছেন।
তালতলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া একদমই অযৌক্তিক। আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের নেতৃত্বে যে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এটা আমার নলেজেও আসছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন