মো:মিজানুর রহমান শাহীন
চলতি বোরো মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর হাওর অঞ্চলে বোরো ধানের চারা রোপণ চললেও অতি মাত্রার শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কিছুদিন ধরে কৃষি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর মধ্যেই নতুন করে কৃষকদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র সার সংকট।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার মিললেও তা ন্যায্য মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর রাতে মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোর ইউনিয়নে জনগণের হাতে এক ট্রাক অবৈধ সার আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের যোগসাজশে অধিক মুনাফা ও অবৈধ আয়ের উদ্দেশ্যে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ভাটি অঞ্চলে সার সংকট নতুন নয়। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম, সীমিত ডিলারশিপ এবং হাওরের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বোরো মৌসুম এলেই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। যদিও সাম্প্রতিক সড়ক উন্নয়নে যোগাযোগ কিছুটা সহজ হয়েছে, তবুও বাস্তব সংকট কাটেনি।
সরকার সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা–২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে দাবি কৃষকদের। তারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো পর্যাপ্ত সার না পেলে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাধারণ কৃষকদের একটাই দাবি সঠিক সময়ে, ন্যায্য মূল্যে এবং পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করা হোক, যাতে হাওর অঞ্চলের বোরো আবাদ ও কৃষকের জীবন-জীবিকা রক্ষা পায়।
এছাড়া ও শ্রমিক সংকটোর কারনে ক্ষেতে কাজ করতে পারছেন না।বোরো মৌসুমে জমি তৈরি থেকে শুরু করে জমিতে চারা গাছ লাগানো পর্যন্ত অনেকগুলি প্রসেস সম্পন্ন করতে হয়,যেখানে অনেক শ্রমিক লাগে।ফাইজুল নামে একজন কৃষক বলেন, বর্তমানে ক্ষেতে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। মানুষ এখন শহরমুখী হয়ে গেছে।গ্রামের শ্রমিকেরা শহরে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করছেন,তাই শ্রমিক সংকটের কারনে আমরা ক্ষেতে কাজ করতে পারছিনা।
মন্তব্য করুন