মোঃ মশিউর রহমান
দিনাজপুর পুলিশ সুপারের নামে প্রতারণা
ডিবির অভিযানে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার
দিনাজপুর পুলিশ সুপারের নাম ও পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), দিনাজপুর-এর অভিযানে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর-০৪ (খানসামা ও চিরিরবন্দর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আক্তারুজ্জামান মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একটি প্রতারক চক্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। প্রতারকরা দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম মহোদয়ের পোশাক পরিহিত ছবি সংবলিত ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে নিজেদের পুলিশ সুপার পরিচয় দেয়।
প্রতারকরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চিরিরবন্দর থানা এলাকায় দুটি স্টিল নির্মিত পুলিশ বুথ স্থাপন করা হবে—একটি ঘুঘুরাতলী এলাকায় এবং অন্যটি সুবিধাজনক স্থানে। বুথ নির্মাণ বাবদ প্রতি বুথে ৮৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ সর্বমোট ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে দাবি করে তারা। এমপি প্রার্থী হিসেবে বিষয়টি “ডোনেশন” হিসেবে প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এরপর প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দুটি বিকাশ নম্বর পাঠায়। এতে বিশ্বাস করে জনাব আক্তারুজ্জামান মিয়া গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে ঘুঘুরাতলীর একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে উক্ত দুই নম্বরে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা প্রেরণ করেন।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে অবশিষ্ট আরও ১ লাখ টাকা দ্রুত পাঠানোর জন্য পুনরায় চাপ দেওয়া হলে এমপি প্রার্থীর সন্দেহ হয়। পরে বিকাশ নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপেও আর কোনো সাড়া মেলেনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে ৫নং আব্দুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ চিরিরবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১/২২/২৪/২৭ ধারায় রুজু করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), দিনাজপুর-এর কাছে ন্যস্ত করা হয়।
মামলার তদন্তে ডিবির একটি বিশেষ দল ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ জুনাইদ খন্দকার (২৪), পিতা-মৃত ইদ্রিস খন্দকার, থানা-কেন্দুয়া, জেলা-নেত্রকোনা এবং মোঃ হিমেল (২৩), পিতা-আরশাদ আলী, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ।
গ্রেফতারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৩৫ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের নম্বর সংগ্রহ করে এসপি পরিচয়ে কল দিয়ে প্রতারণা চালাত।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান ।