এম, কলিম উল্লাহ মানিক
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আলটিমেটাম, জনরোষ এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই নতুন বছর বরণে উৎসবের আমেজে সেজেছে সোনাদিয়া দ্বীপ। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) হিসেবে চিহ্নিত এই দ্বীপে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ কটেজগুলোতে জমকালো আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে থার্টি ফার্স্ট নাইট।
সামুদ্রিক কচ্ছপ ও লাল কাঁকড়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন ক্ষেত্র সোনাদিয়ায় গড়ে ওঠা বিতর্কিত কটেজগুলোতে রঙবেরঙের আলোকসজ্জা, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বছরের প্রথম দিনেই সেখানে চলছে রমরমা বাণিজ্য।
কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটেজগুলোর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানালেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য জাতীয় ইস্যুর সুযোগে প্রশাসনিক নজরদারি শিথিল হয়ে পড়ে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন কার্যক্রম সীমিত রাখলেও সুযোগ বুঝে কটেজ মালিকরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এসব অবৈধ কটেজ কি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে, নাকি সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে?
দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করা পরিবেশকর্মী মিজানুর রহমান বলেন,
“প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কটেজগুলো এখন উৎসবের নামে নির্বিচারে পর্যটক টানছে, যা ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে।”
পরিবেশবিদদের মতে, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, উচ্চ শব্দের সঙ্গীত ও কৃত্রিম আলোর কারণে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী ও সোনাদিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন