মো আমিনুল ইসলাম
বিগত আ.লীগ সরকার আমালে নির্যাতিত-নিপীড়িত ছাত্রদল নেতা সোহেল আহম্মেদ রুবেলকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আ.লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাথে মামলার আসামী করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক মহলে চরম নিন্দার ঝড় বইছে।
রুবেল পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া ঘোষের টিকিকাটা গ্রামের মহারাজ মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ দিন তার স্ব-পরিবার মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডে বসবাস করায় এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার হয়েছেন। মামলায় সোহেল আহম্মেদ রুবেল এর অস্থায়ী ঠিকানা দেখানো হয়েছে উত্তরা ১ নং সেক্টরের ১০ নং সড়কে। রুবেল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পৌর ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারী তিনি আ.লীগের হামলার শীকার হন। এসময় সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে তার ডান পা ভেঙে দেয়। যা ওই সময় বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাই করে প্রকাশিত হয়। জানা গেছে, গাজীপুর সদর জেলার আরিচপুর নিশীখা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম চানুর মেয়ে মোসাঃ সালমা খাতুন বাদী হয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম মহোদয়ের আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ২০২ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরো ৩০০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসিকে এজাহারের নির্দেশ দেন। গত ১৪ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু মামলাটি এজহার হিসেবে গণ্য করেন। এ মামলায় সোহেল আহমেদ রুবেল ১৩২ নম্বর আসামি। মামলার বিবরনে জানা যায়, গত ০৫ আগস্ট'২৪ তারিখ সকাল অনুমানিক ৯টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনে সালমা খাতুন এর স্বামী কবির হোসেন এবং বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ স্বৈরাচার সরকার পতনের একদফা দাবীতে উত্তরার বিভিন্ন সড়ক সহ আমির কমপেক্স মার্কেটের পিছনের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আসামীগণ সহ আজ্ঞাতনামা আসামীগণ বেআইনী ভাবে জনতাবদ্ধে প্রাণঘাতি মারাত্বক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে দাংগা সংগঠন করে ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। এ সময় সালমা খাতনের স্বামী মো: কবির (৫০) সহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও মারাত্মক আহত হয়।স্থানীয়রা গুরুতর আহত কবিরকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মৃত্য ঘোষণা করেন।
ছাত্রদল নেতা সোহেল আহম্মেদ রুবেল জানান, আমার জীবদ্ধশায় ঢাকা উত্তরায় যাইনি। আমি যেখানে জাতীয়তাবাদের রাজণীতি করি, বহুবার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতণের শীকার হয়েছি, সেখানে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার সাথে হত্যা মামলার আসামী হলাম। সেই ৫ তারিখ আমি মঠবাড়িয়ায় আনন্দ মিছিল করেছি, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে। মামলার বাদি আমাকে চিনেন না-জানেন না, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমাকে মামলায় জড়িয়েছেন। আমি দলের নীতি-নির্ধারকদের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মো. শামীম মিয়া মৃধা বলেন, সোহেল আহম্মেদ রুবেল ছাত্রদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া দুঃখজনক।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, বিজ্ঞ আদালতের আদেশে মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।