মোঃ রাতুল হাসান লিমন
টানা কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (স্থানীয় সময়) দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে তা নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখা হবে এবং সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন সেনাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে ঘরছাড়া হয়ে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা (গ্রিনিচ মান সময় ৫টা) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। চুক্তিটি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে থাইল্যান্ডে আটক থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর প্রায় এক মাস ধরে চলা আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফল হিসেবেই এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে উত্তেজনা প্রশমনের অংশ হিসেবে বলা হয়, বেসামরিক জনগণ, স্থাপনা ও অবকাঠামো কিংবা উভয় দেশের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কোনো ধরনের হামলা চালানো যাবে না। পাশাপাশি কোনো উসকানি ছাড়াই গুলি চালানো বা সীমান্তে সেনা এগিয়ে নেওয়া থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আটক ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনার মুক্তি দেওয়া হবে ‘কুয়ালালামপুর ঘোষণা’-এর চেতনা অনুযায়ী। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল দুই দেশ। তবে চলতি মাসের শুরুতে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, উবন রাতচাথানি প্রদেশে কম্বোডিয়ান বাহিনীর গুলির জবাবে পাল্টা প্রতিরোধে নামে তারা এবং এতে এক থাই সেনা নিহত হন। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, প্রেহ ভিহার প্রদেশে প্রথম হামলা চালায় থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া কোনো পাল্টা আক্রমণ করেনি।
ডিসেম্বরজুড়ে সীমান্ত এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। সর্বশেষ শুক্রবার থাইল্যান্ড বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। থাই বিমানবাহিনীর ভাষ্য, বেসামরিক লোকজন এলাকা ছাড়ার পর একটি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তবে কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, ওই হামলায় বেসামরিক বসতবাড়ি লক্ষ্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস শত বছরের বেশি পুরোনো। চলতি বছরের মে মাসে এক সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার এক সেনা নিহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। জুলাই মাসে পাঁচ দিনের তীব্র সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে গত অক্টোবরে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘কুয়ালালামপুর পিস অ্যাকর্ডস’ নামে পরিচিত। এতে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার ও পর্যবেক্ষক দল গঠনের কথা বলা হলেও নভেম্বর মাসে থাইল্যান্ড চুক্তি স্থগিত করে। সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল দাবি করেন, সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি।