চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চলমান নিয়োগ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ
ও বিতর্কিত করার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি
(জিডি) করেছেন সংস্থাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজমল খান। সোমবার
জিডিটি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৭১টি
পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক
তৈরি হয়। তড়িঘড়ি করে লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং পরীক্ষার
প্রস্তুতি সংক্রান্ত নানা অসংগতি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষোভও
প্রকাশ করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আওতাধীন
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে
মৌখিক পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত
নিয়োগ কমিটির তত্ত্বাবধানে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায়
এই কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। তবে চলমান
এই নিয়োগ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি অপরিচিত ই-মেইল
থেকে একটি অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা নিয়োগ কমিটির
সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন। ফলে একটি দুষ্টচক্র পরিকল্পিতভাবে
নিয়োগ কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। ’
অভিযোগ আছে, পরীক্ষার সময়সূচি জানাতে অনেক পরীক্ষার্থী দেরিতে খুদে
বার্তা (এসএমএস) পেয়েছেন। ফলে তারা সময়মতো প্রবেশপত্র
ডাউনলোড করতে পারেননি কিংবা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২১ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২৭ মিনিটের
দিকে চট্টগ্রামের আন্দকিল্লাহ এলাকায় অবস্থানকালে সিভিল সার্জন
কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত
পোস্টগুলোতে ওই চক্রের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা মন্তব্য
ছড়ানো হচ্ছে। এতে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য
রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ
গ্রহণের স্বার্থে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা জরুরি। ’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম বলেন,
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি তদন্ত
করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার
অপারেটর, স্টোর কিপার, অফিস সহায়ক, পরিসংখ্যানবিদ ও গাড়ি চালক-
এ ছয় পদে মোট ১৮ হাজার ৪০৪ জন আবেদন করেন। তবে লিখিত
পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ হাজার ৬৭২ জন। প্রায় ৫ হাজার ৭৩২ জন
পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
মন্তব্য করুন