নারীদের বিভাগ সুরক্ষায় ‘প্রটেকশন অব দ্য ফিমেল ক্যাটাগরি’ কর্মী দল কাজ করছে।
অলিম্পিক গেমসে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর অবশেষে নতুন যোগ্যতা নীতিমালা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)। সংস্থাটি জানায়, আগামী বছরের প্রথম দিকেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বর্তমানে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের জন্য অলিম্পিকে অংশগ্রহণের কোনো একক নীতিমালা নেই। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন নিজেদের মতো করে নিয়ম ঠিক করায় বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে একটি অসংগতি তৈরি হয়েছে।
নতুন সভাপতি কির্সটি কোভেন্ট্রি দায়িত্ব নেওয়ার পর জুন মাসে IOC আগের সিদ্ধান্ত বদলে নিজ উদ্যোগে নীতিমালা প্রণয়নে এগিয়ে আসে। এরপর সেপ্টেম্বরে তিনি ‘প্রটেকশন অব দ্য ফিমেল ক্যাটাগরি’ নামে বিশেষ একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেন, যেখানে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ
ও আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
বুধবার নির্বাহী বোর্ড সভা শেষে কোভেন্ট্রি সাংবাদিকদের বলেন, “নারীদের বিভাগ সুরক্ষার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব পক্ষের মতামত নিয়ে আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই।”
তিনি আরও জানান, ২০২6 সালের প্রথম প্রান্তিকেই নির্দিষ্ট নীতি প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।
“সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যথেষ্ট সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চাই,” বলেন কোভেন্ট্রি, যিনি নিজেও একজন সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু।
এর আগে IOC ঘোষণা করেছিল যে অংশগ্রহণের নিয়ম প্রতিটি ফেডারেশন নিজ উদ্যোগে ঠিক করবে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে কিছু ফেডারেশন নিয়ম তৈরি করলেও অনেকেই এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ইতিহাসে এখন পর্যন্ত খুব কমসংখ্যক ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন। ২০২১ টোকিও অলিম্পিকে নিউজিল্যান্ডের লরেল হাবার্ড প্রথমবারের মতো জন্মলগ্নে নির্ধারিত লিঙ্গের বাইরে অন্য বিভাগে অংশ নেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল পর্যায়ে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্ত মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে।
মন্তব্য করুন