আসসালামু আলাইকুম, আশা করি মহান আল্লাহ তাআলার রহমতে ভালো আছেন।আপনার সুদীর্ঘ হায়াত ও সুস্থতা কামনা করি।আপনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় সমগ্র জাতি। প্রথমেই আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আপনার মূল্যাবান সময় নষ্ট করার জন্য। লেখার মধ্যে ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
প্রিয় অভিভাবক, প্রিয় লিডার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি আজ এক সংকটময় সময় পার করছে। আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত লাখো ত্যাগী নেতাকর্মী আজ প্রশ্নবিদ্ধ সময় পার করছে। দেশের ক্রমাগত রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও যে দলটি দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করে আসছে, সেই দলের অভ্যন্তরেই আজ নানা অসঙ্গতি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, যা আমাদের সামগ্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় অভ্যন্তরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিটি নিয়ে অস্বচ্ছ আচরণের ফলে বহু ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন। এই দুরবস্থার সুযোগে কিছু সুবিধাবাদী ও তথাকথিত "হাইব্রিড" নেতাদের উত্থান ঘটছে, যাঁরা কখনও মাঠে ছিলেন না, অথচ আজ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হচ্ছেন। এর ফলে মূল দলের আদর্শ, ঐতিহ্য ও আন্দোলনের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রদল, যা এক সময় ছিল আমাদের রাজনৈতিক প্রাণশক্তি, সেই সংগঠন আজ ঢাবি (ডাকসু), জাবি (জাকসু) কিংবা অন্য যেকোনো ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হচ্ছে। এক সময় যেখান থেকে নেতৃত্বের বীজ অঙ্কুরিত হতো, আজ সেখানকার সংগঠকরা দিশাহীন, অনুপ্রেরণাহীন ও প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। ছাত্রদলের এই ধারাবাহিক ভরাডুবি আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রেও গভীর সংকেত দিচ্ছে।
এ অবস্থায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—দলের নাম ব্যবহার করে যারা অপকর্মে লিপ্ত, চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা এবং সাংগঠনিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। যাতে কেউই দলকে নিজের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করার সাহস না পায়। দলকে বাঁচাতে, আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে এটাই এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেইসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে—কারণ বিএনপির শক্তি আসে তৃণমূলের সেই অবহেলিত মানুষদের কাছ থেকেই। তাদের সাথে সংযোগ হারালে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে—দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে পড়ছেন, একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন, দোষারোপে কারণে জনগন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা যদি সময়মতো থামানো না যায়, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নিজেদের সাথেই লড়াই করে পরাজিত হবে। এই পরিস্থিতিতে আপনাকে অনুরোধ, খুব দ্রুত নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে কোন্দলের অবসান ঘটাতে হবে এবং সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামাতে হবে। এছাড়া ত্যাগীদের সম্মান দিয়ে, পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করে, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে আবারও বিএনপিকে মাঠে ফেরাতে হবে।
জনগণ এখনও বিএনপির দিকে চেয়ে আছে, এক নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের আশায়। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের ঘর সামলাতে না পারি, তবে জনআস্থা হারানো এক সময় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। তাই এখনই সময়, দলীয় অর্গানাইজেশনকে ঢেলে সাজানো, তৃণমূলের মতামতকে মূল্য দেওয়া, মেধাবী ও ত্যাগীদের পুনর্বাসন করা, এবং সেই সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত ও হাইব্রিড নেতাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আপনার অভিজ্ঞতা, দূরদৃষ্টি ও সংগ্রামী চেতনার ওপর ভরসা রেখেই এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আমাদের হৃদয়ের কথা জানালাম। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপিকে আবারও মাঠের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন, যে দল রাজপথেও থাকবে, আন্দোলনেও থাকবে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতেও জোরালোভাবে ফিরে আসবে।
আপনার সক্রিয় নেতৃত্ব ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপেক্ষায়।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
শহীদ জিয়া অমর হোক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান জিন্দাবাদ।
আল্লাহ হাফেজ
মন্তব্য করুন