সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদাররা চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে সাব-বেজ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু। চুক্তি অনুযায়ী যেখানে সড়কের দুই পাশে তিন ফিট প্রশস্ত ও মানসম্মত সোল্ডার নির্মাণের কথা, সেখানে খাল থেকে কাদামাটি তুলে সরু করে সোল্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে সোল্ডার ধসে পড়ে সড়কের দুই পাশে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের “উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স।
এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৫২ লাখ ৬৫ হাজার ১৩৭ টাকা, আর চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ১৯৫ টাকা।
এই প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন সিরাজগঞ্জের মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করছেন।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ১১০ জনের স্বাক্ষরসংবলিত অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়। জেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কেও একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের ভাদাশ ও সেরাজপুর গ্রাম এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক খাল থেকে কাদামাটি তুলে সড়কের সোল্ডারে ফেলছেন। এছাড়া ভোগলমান চার মাথা এলাকায় নিম্নমানের ইট ও খোয়া স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন,
“মির্জা সাইফুল ও মাহবুব নামের দুই সাব-ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছেন না। ল্যাব টেস্ট ছাড়াই স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত নিম্নমানের খোয়া মজুদ ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া সড়কের দুই পাশে কাদামাটি দিয়ে সরু করে সোল্ডার তৈরি করা হচ্ছে।”
মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সাব-ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর রিসিভ করেননি। অপর সাব-ঠিকাদার মাহবুব চৌধুরী পরে কথা বলবেন বলে ফোন রাখলেও এরপর আর যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান,চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাব-ঠিকাদারদের একাধিকবার লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি, যা করা সম্ভব সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,
“কাটাগাড়ী সড়ক মেরামত কাজে অনিয়মের অভিযোগ ডাকযোগে পেয়েছিলাম। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি আবার জানতে পারলাম। জেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন