পতিত আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন ও দলীয়করনের মাধ্যমে শুরু হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ হতে অবৈধ ভাবে ও অবাধে বালু উত্তোলনের একই ধারাবাহিকতায় চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে দিন দিন ফুরিয়ে আসছে খনিজ বালুর বিশাল মজুদ। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায়শঃই উত্তোলনকারীদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ, ট্রাক, ডাম্পার,ট্রাক্টর সহ অবৈধ বালু পরিবহনকারী যানবাহন আটক করে জরিমানা করলেও অবৈধ উত্তোলন থামছেনা। পক্ষান্তরে সরকারী ভাবে বালু উত্তোলনের জন্য নিদৃষ্ট নীতিমালা না করায় ও খনিজ বালু সম্পর্কিত তথ্য সরকার ও জনগনের মধ্যে অজানা থাকায় নদের ভাঙ্গন এবং মূল্যবান সম্পদ রক্ষাও সম্ভব হচ্ছেনা। ২০০০ সালের পরবর্তি সময়ে খনিজ পদার্থ অনুসন্ধানকারী একটি দল চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অসংখ্য জাগায় পাইপ বোরিং করে। উক্ত গবেষনা দল উপজেলার রমনা, জোড়গাছ,ব্যাঙমারা, রাজারভিটা, কাচকোল,ফকিরেরহাট সহ চরাঞ্চলে অষ্টমীরচরের বিভিন্ন জাগায় তাদের খনন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। খনন কাজের ফলাফলে তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা সহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের অষ্টমীর চর এলাকার নদের তলদেশে মাত্র ১০ মিটার গভীরেই বিশাল খনিজ বালুর মজুদের সম্ভাবনার কথা ঘোষনা করেন। গবেষণা প্রতিবেদনে নদীর বালুতে ইউরেনিয়াম, ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, গারনেট ও কোয়ার্টজসহ ৮ টি মুল্যবান খনিজের পদার্থের অস্তিত্বের তথ্য উঠে আসে, যার বাজার মূল্য - প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এ খবর শোনায় চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। সে সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম করা হয়, " চিলমারীতে হিরার খনির সন্ধান লাভ । চিলমারীর সকলেরই চোখ ছলছল করে নতুন স্বপ্নের আশায়। গবেষক দল উক্ত বালুর নমূনা অষ্ট্রেলিয়াতে পরীক্ষার জন্য পাঠালেও আজ অবধি তার কোন ফলাফল জানা যায়নি। এই সম্ভাবনাকে ঘিরে যেমন অর্থনৈতিক আশার কথা বলা হচ্ছে, তেমনি অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদের গর্ভস্থ খনিজ মিশ্রিত বালু সাধারণ কাজে ব্যবসায়ীরা নাম মাত্র দামে বিক্রয় করছেন।
জানা যায়, চিলমারী অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ অনেক ঢালু ও গভীর থাকায় উজানের স্রোতের টানে গড়িয়ে আসা বালু অতি সহজেই এখানে জমা হয়ে থাকে। এই বালুর সংগে বয়ে আসা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিশ্রিত থাকায় দিনের পর দিন জমা হয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল খনিজ বালুর মৌজুদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে এসব খনিজ পদার্থ টাইটানিয়াম শিল্প, সিরামিক, কাচ, রং, ওয়েল্ডিং রডসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে এসব খনিজ আহরণ করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। স্থানীয় ও নদী তিরবর্তী মানুষের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদে রাতের অন্ধকারে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ভাটিতে নদী পথে গাইবান্ধা অঞ্চলে নিয়ে বিক্রয় করছেন। ফলে দিনদিন ফুরিয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্রনদের তলদেশে সঞ্চিত হয়ে থাকা বিশাল খনিজ বালুর মজুদ। বাহের দেশের ক্ষুদ্র জনপদেটিতে পর্যাপ্ত কর্ম ক্ষেত্রের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশের বিশাল খনিজ বালুর মজুদ রক্ষা করা জরুরী। তাই অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উওজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খনিজসম্পদ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্তব্য করুন