জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 22-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জ দরগা রোডে এলিট টাওয়ার—দুর্নীতি, ঘুষ ও জননিরাপত্তার ভয়াবহ ঝুঁকি

মোঃ আবুসুফিয়ান তালুকদার 

 সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র দরগা রোডে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এলিট টাওয়ার এখন কেবল একটি ভবন নয়—এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দুর্নীতি, ঘুষ লেনদেন ও আইনের প্রকাশ্য অবমাননার এক ভয়ংকর নিদর্শন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রভাবশালী একটি চক্র পুলিশি ক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ৬ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। এই চক্রে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ এসপি অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট খাদেমুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক হেদায়েত উল্লাহ,গং সহ একাধিক ব্যক্তি।
কোটি টাকার নির্মাণ, আয়ের উৎস অজানা
এলিট টাওয়ার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এই বিপুল অর্থের বৈধ উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসপি অফিসের হিসাব রক্ষক হেদায়েত উল্লাহর নামে ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও তাদের নামে-বেনামে 

আরও অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
ঘুষ ছাড়া অনুমোদন নয়?
ভবন মালিক রজব আলী নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঢাকা ফায়ার সার্ভিসে ঘুষ দেওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সেফটি ছাড়পত্রও ঘুষের বিনিময়ে আদায় করা হয়েছে বলে প্রশ্ন উঠছে।
দীর্ঘ চার বছর ধরে পৌরসভা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরকারি প্রতিবেদনে ধরা পড়লেও থামেনি অবৈধতা
পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ আনিসুর রহমান এপ্রিল ২০২২ সালে দেওয়া প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এলিট টাওয়ার নির্মাণে সেটব্যাক রুলস লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরপরও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হয়নি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর মেয়র নকশা বহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ ৮ তলা ভবন অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ আজও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটব্যাক ও নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত এই ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনটি ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই ঝুঁকির দায় নেবে কে?
প্রশ্ন প্রশাসনের দিকে
অবৈধ নির্মাণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কোথায় ছিল?
ঘুষ ও প্রভাবের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো তদন্ত হয়নি?
মেয়রের অপসারণ নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে কারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?
সচেতন মহলের মতে, এলিট টাওয়ার ইস্যু শুধু একটি ভবনের নয়—এটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার নগ্ন চিত্র। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এমন অবৈধতা আরও উৎসাহ পাবে।
জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আর নেই

1

ওসমান হাদীকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিএনপির বিক

2

ছাতকে ব্যবসায়ী মানিক হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মা

3

সাপাহারে বিএনপির বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

4

এনায়েতপুরে শেখ হাসিনর ফাঁসির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও

5

নওগাঁয় ডিবির অভিযানে আন্তঃজেলা বৈদ্যুতিক মিটার চোরচক্রের ৭ স

6

মা ইলিশ রক্ষার শেষ দিনে সাড়ে ৮ হাজার মিটার জালসহ ২৬ জেলে আটক

7

চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলীকে উপশহর ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক জোন

8

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন বিদ্রোহী প্রার্

9

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

10

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ‘মানসিক সমস্যা’ দেখছেন ল্যাঙ্গেভেল

11

যশোর-৫ আসনে জোট সমঝোতায় জমিয়ত নেতার উত্থান, বিএনপির মনোনয়ন প

12

ইসলামীয়া প্রিপারেটরী স্কুলের উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠি

13

বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির আঞ্চলিক সংলাপ

14

ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক রেজা ও সদস্য সচিব খালেদ

15

ধামরাইয়ে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হয়েছে

16

আমি নির্বাচিত হলে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে

17

বাবার ফেলা যাওয়া দুই শিশু বাঁচানো গেল না ১৪ মাসের মোর্শেদকে

18

কালিগঞ্জ দক্ষিণ শ্রীপুরে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর আয়োজনে ইউন

19

দিনাজপুরে ১২ কোটি টাকার ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

20