Mst: Meherun Nesa
প্রকাশঃ 22-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

‎শহীদ ওসমান হাদি স্মরণে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের নাগরিক শোকসভা

  ‎এস.এম. পারভেজ 
  ‎আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চ ও  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে ঝালকাঠিতে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের কাজী খলিলুর রহমান মিলনায়তনে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওসমান হাদির সহপাঠিরা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
‎শোকসভায় ওসমান হাদির জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
‎সভায় বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশপন্থী নতুন ধারার রাজনীতির একজন স্পষ্ট কণ্ঠ। বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও টেলিভিশন টকশোতে তিনি বারবার ইনসাফ কায়েমের কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং আধিপত্যবাদের বিরোধিতা স্পষ্টভাবে উঠে আসত। বক্তারা বলেন, সংস্কৃতির নামে যে একচেটিয়া আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া হয়—ওসমান হাদি সেটিকে ‘কালচারাল ফ্যাসিজম’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাতেন।


‎শোকসভায় আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ওসমান হাদি ছাত্র–জনতা অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মকে সামনে এগিয়ে নেন। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মাধ্যমে তিনি গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন।
‎বক্তারা তার ব্যক্তিগত জীবনও স্মরণ করেন। তারা বলেন, ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহলের মুন্সি বাড়িতে জন্ম নেওয়া ওসমান হাদি একটি ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা মরহুম মাওলানা আব্দুল হাদী ছিলেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। শিল্প–সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে ‘সীমান্ত শরিফ’ ছদ্মনামে তার কাব্যগ্রন্থ লাভায় লালশাক পুবের আকাশ প্রকাশিত হয়।
‎ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই থেকে যখন ব্যাপক ভাবে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তখন কয়েক জনের নামের সাথে ওসমান হাদির নাম ততটা আসেনি। তিনি আলোচনায় আসেন তিন ও চার আগস্ট তারিখে শাহাবাগে একটি স্লোগানে। লাফিয়ে লাফিয়ে উদ্দীপ্ত জাওয়ানের মত বলতে শুনেছিলাম দিল্লি না ঢাকা। সেই স্লোগান থেকেই আমি তাকে প্রথম চিনেছি। এরপর ৫ আগস্টের পটভূমি পরিবর্তনের পরে বিভিন্ন টকশো ও আলোচনায় তার কথাবার্তা অসংখ্যবার শুনেছি। এখনো পুরোনো রেকর্ড গুলো শুনি। ‎তিনি আরও বলেন, তার কথা বলার ধরনে ভয় ছিল না। যা বিশ্বাস করতেন, সেটাই বলতেন।
‎জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিন বলেন, ওসমান হাদিকে আমরা শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী বা সংগঠক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি ছিলেন চিন্তাশীল একজন মানুষ, যিনি সময়ের অনেক আগেই কিছু বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাজপথে যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনি যুক্তি ও চিন্তার জায়গাতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‎তিনি আরো বলেন, “ওসমান হাদির রাজনীতি ছিল মেধাভিত্তিক। তিনি আবেগ দিয়ে মানুষকে টানতেন না, তিনি কথা বলতেন যুক্তি দিয়ে। বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও টকশোতে আমরা দেখেছি—তিনি কঠিন বিষয়ও সাধারণ ভাষায় ব্যাখ্যা করতেন। আধিপত্যবাদ, সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ কিংবা ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি যে বিশ্লেষণ দিতেন, তা অনেক তরুণের চিন্তাকে নাড়া দিয়েছে।”
‎জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তিনি দেখিয়ে গেছেন, রাজনীতি শুধু স্লোগান আর মিছিল নয়—সংস্কৃতি, চিন্তা আর মননও রাজনীতির বড় শক্তি। এই জায়গায় তার অবদান ভবিষ্যতেও আলোচনা হবে।”
‎তিনি বলেন, “ওসমান হাদির জীবন ও চিন্তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। তার স্মৃতি রক্ষার্থে কোনো স্থায়ী উদ্যোগ—যেমন একটি মিউজিয়াম, স্মরণকেন্দ্র বা গবেষণাধর্মী আয়োজন—নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আপনারা যদি প্রস্তাব দেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব। এ বিষয়ে ঝালকাঠিবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
‎শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হাসান, জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট রেজাউল হক আজিম, শহীদ ওসমান হাদির সহপাঠী সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-আমিন তালুকদার সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আককাস সিকদার।
‎শোকসভা শেষে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ

1

পাঁচবিবিতে ইয়ানুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের যৌথ অভি

2

অবশেষে আলীকদমেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে

3

নবাবগঞ্জে ইউএনওর হাত ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া

4

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিশোরগঞ্জে

5

সবাইকে কাঁদিয়ে, না ফেরার দেশে নাসিম আকন

6

বান্দরবান জেলা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা উদ্ধার

7

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মানব বন্ধন

8

আ.লীগের সময়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় শিবির নেতার ক

9

বগুড়ার ধুনটে নির্মাণ শ্রমিকের আত্মহত্যা

10

কুয়াকাটায় দুই শত বছর পুরান ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা ও পূণ্যস্নান উ

11

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে উন্নয়নের নতুন

12

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে হাইমচর উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক স

13

রায়গঞ্জের আত তাকওয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

14

এবার দ্রুত ইরান ছাড়তে নাগরিকদের নির্দেশ দিল ফ্রান্স ও কানাডা

15

ইসলামের নামে মুনাফেকি করছে জামায়াত

16

দিনাজপুরে পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া বন বিভাগের অবৈধ দখলের

17

ইন্টারনেট আছে-স্পিড নেই, ডিজিটাল শিক্ষার নামে লুটপাট

18

উজিরপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণ করছেন পুল

19

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত

20