আবু সায়েম
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দুই হাজার হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী তরুণ আরিফ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের কুচপুকুরিয়া গ্রামের আরিফ (পিতা: আইনাল) স্বল্প শিক্ষিত হলেও পরিশ্রম ও দূরদর্শিতায় নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। বর্তমানে তিনি মোট দুই হাজার হাঁস পালন করে এলাকায় স্বাবলম্বী বেকার যুবকের সফল উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
দুই হাজার হাঁস—একটি শক্তিশালী খামার গড়ে ওঠার গল্প
আরিফ কয়েক বছর আগে অল্প সংখ্যক হাঁস পালন দিয়ে শুরু করেছিলেন। অভিজ্ঞতা, যত্ন ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি বছরের পর বছর হাঁসের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় দুই হাজার হাঁস রয়েছে—যা নিয়ামতপুর উপজেলার মধ্যে হাঁস পালনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিম ও হাঁস বিক্রি—নিয়মিত আয়ের উৎস
খামারের হাঁসগুলো প্রতিদিন প্রচুর ডিম দেয়, যা স্থানীয় বাজার, হাট এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয়। ডিম বিক্রি ছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী হাঁস বিক্রি করেও আরিফ ভালো আয় করছেন।
তার মাসিক আয় এখন ৫০–৬০ হাজার টাকা বা তারও বেশি, বাজারদরের ওপর নির্ভর করে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
আরিফের হাঁস খামার স্থানীয় অর্থনীতিকেও সক্রিয় করেছে।
অনেক শ্রমিক তার খামারে দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কাজ করেন।
স্থানীয় খাদ্য ব্যবসায়ীরাও লাভবান—কারণ খামারের খাদ্যের বড় অংশ কাছাকাছি দোকান থেকেই সংগ্রহ করা হয়।
ফলে একটি ছোট খামার এখন পুরো গ্রামের আয়বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
আরিফের সফলতার কারণ
আরিফ বলেন—
“পরিশ্রম করলে গ্রামেই বসে নিজের কাজ তৈরি করা যায়। দুই হাজার হাঁস পালনের দায়িত্ব অনেক, কিন্তু নিয়ম মেনে খাদ্য ও পরিচর্যা করলেই লাভ নিশ্চিত।”
তার সফলতার পেছনে কিছু মূল দিক হলো—

নিয়মিত টিকা

পর্যাপ্ত পুকুর/জলাধার ব্যবস্থাপনা

সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

বাজার বিশ্লেষণ ও পরিকল্পিত বিক্রি
সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় উদ্যোগ সম্ভব
আরিফ জানান, সামান্য সরকারি প্রশিক্ষণ, ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পেলে তিনি হাঁসের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে খামারকে আধুনিক করতে চান। এতে গ্রামে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
দুই হাজার হাঁস পালন করে আরিফ শুধু নিজের জীবনে স্বচ্ছলতা আনেননি, একই সঙ্গে গ্রামে ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন—
কৃষি ও খামারভিত্তিক উদ্যোগ গ্রামীণ বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।