আসরাফ এমরানশ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রসেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন (জহর) দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে না এসে আত্মগোপনে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এ ধরনের দায়িত্বহীনতা ইউনিয়নবাসীর মৌলিক নাগরিক সেবাকে জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিনই জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার জন্য ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। তবে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে এসব আবেদন দিনের পর দিন ফাইলবন্দি হয়ে থাকছে। স্বাক্ষর না থাকায় অনেক আবেদন সরাসরি আটকে যাচ্ছে, ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে বারবার পরিষদে আসছেন।ইউনিয়ন আসা রহিমা বেগম বলেন আমি মোহাজিরাবাদ থেকে ১০০ শত টাকা ভাড়া দিয়ে আসছি এখন অফিসে থাকা লোকজন বলে আপনার স্বাক্ষর হয়নি,আপনি আরো দুইদিন পর আসেন। অপর আরেকজন মামুন মিয়া বলেন আমি তাহেরা নন্দরানী থেকে আসছি আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধন নিতে আমাকে ও বলা হয়েছে স্বাক্ষর হয় নি।আমরা দিন মজুর মানুষ আমরা কাজ বাদ দিয়ে দুই দিন পর পর আসা কি সম্ভব।
এছাড়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মোবাইল ফোন বন্ধ, বাসভবনে তালা—সব মিলিয়ে পুরো ইউনিয়ন যেন নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সরকারি সেবা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে।
একাধিক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তারা চরম বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল ঝুলে আছে, পরিষদের কার্যক্রম চলছে খণ্ডকালীন ও অগোছালোভাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে থাকা মানে শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রশ্ন উঠেছে—চেয়ারম্যান কেন আত্মগোপনে? এর পেছনে কোনো অনিয়ম, আইনি জটিলতা নাকি রাজনৈতিক চাপ রয়েছে? এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।