পল্লব কুমার দাস
প্রকাশঃ 14-মে-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিদ্যালয়ে সময় দেন না শিক্ষাক, ইউএনওর কাছে অভিযোগ করায় সহকর্মীকে মারধর

অভিযুক্ত শিক্ষকনেতা মজনুর রহমান (বাঁয়ে) এবং ভুক্তভোগী শিক্ষক রবিউলের দেহে আঘাতের চিহ্ন।

যশোরের মনিরামপুরে এক শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর সহকর্মী। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না আকস্মিকভাবে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে তিনি এই অভিযোগ করেন। পরে ইউএনও বিদ্যালয় ত্যাগ করার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মজনুর রহমান তাঁর সহকর্মী রবিউল ইসলামকে মারপিট করেন।


মারপিটের শিকার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না মজনুর রহমান। বিদ্যালয়ে এলেও তিনি ক্লাস না নিয়ে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দুই-এক ঘণ্টা অফিসে বসে চলে যান। রবিউল ইসলাম আরও বলেন, মঙ্গলবার ইউএনও বিদ্যালয়ে এসে সবকিছু এলোমেলো দেখতে পান। তখন মজনুর রহমান বিদ্যালয়ে ছিলেন না। তিনি ইউএনওকে মজনুর বিষয়ে বিস্তারিত জানালে ইউএনও চলে যাওয়ার পর মজনুর রহমান বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারপিট করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মজনুর রহমান উপজেলার দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মনিরামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। মারপিটের শিকার শিক্ষক রবিউল ইসলামও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

এ ঘটনায় রবিউল ইসলাম মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মনিরামপুর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এর আগে তিনি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর মজনুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছি এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরপর রাত ১১টার দিকে থানায় মজনুর বিরুদ্ধে এজাহার জমা দিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে মজনুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার আমার তিনটা ক্লাস ছিল। সবগুলো ক্লাস নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম। ইউএনও বিদ্যালয়ে আসার খবর পেয়ে ফিরে এসেছি।’ সহকর্মীকে মারপিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাথা ঠিক ছিল না। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে।’

দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, ‘মজনুর রহমান স্কুলে আসেন।' তবে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি চলে যান। এর বেশি কিছু বলতে চাননি।

ইউএনও নিশাত তামান্না বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক মজনুর রহমানকে প্রথমে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি আসেন। আমি চলে আসার পর শিক্ষক মজনুর রহমান বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক রবিউল ইসলামকে মারপিটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। রবিউল ইসলাম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাপত্রের কপিও জুড়ে দিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে দেখব।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, ‘মজনুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বোরহানউদ্দিনে জামায়াতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোন ভূমিকা নেই

1

সরকারি হাসপাতাল গুলোতে টাকা দিও সেবা মেলে না, অসহায় গরিব মধ

2

মধুখালীতে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে নাকাল জনজীবন

3

তাড়াশে ঈদগাহ মাঠ দখল নিয়ে সংঘর্ষ

4

কালিগঞ্জ উপজেলা ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠ

5

আইপিএলে হঠাৎ আলোচনায় ব্যাটের সাইজ, পরীক্ষায় ফেল নারিন-নরকিয়া

6

যশোরে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

7

নবাবগঞ্জে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলো দাউদপুর ব্লাড ডোন

8

আজ ৬ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস

9

পূবালী ব্যাংকের ২৫৯তম উপশাখার শুভ উদ্বোধন

10

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুলের মনোন

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশী যুবকের লাশ ফেরত দিল ভারত

12

অডিটে ধরা পড়ল অর্থ নয়ছয়: আমিরাবাদ জনকল্যাণ বালিকা বিদ্যালয়ের

13

ঝিনাইদহে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে হামলা

14

শেষ কর্মদিবসে বগুড়া বাসীকে যে বার্তা দিলেন জেলা প্রশাসক মহা

15

প্রথমবারেরমত বাগেরহাটে আসছেন জামায়াতে আমির, লক্ষাধিক মানুষের

16

শিবচরে অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে গাভী বিতরণ ও গাভ

17

সাড়াদেশের ন্যায় গাবতলীতে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি এর

18

শিক্ষার মান উন্নয়নে মধ্যনগরে সমাবেশ

19

ছাত্রদলের উদ্যোগে শীতবস্ত বিতরণ অনুষ্ঠান

20