উত্তর চট্টগ্রামের মানিকছড়ি, গাড়িটানা, তিনট্যহরী, সাপমারা, হেয়াকো, বাগান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চলছে কাঁঠাল মৌসুমের ব্যস্ততা। বিশেষ করে ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো বাজারে জমে উঠেছে কাঁঠালের হাট। সপ্তাহের প্রতি রবিবার ও বুধবার বসে এ হাট, তবে মৌসুমের এ সময়ে সপ্তাহের সাত দিনই কমবেশি কাঁঠাল বেচাকেনা চলছে।
এ মৌসুমে মানিকছড়ি, বাগানবাজার, তিনট্যহরী, সাপমারা, দাঁতমারা, ধুলিয়াছড়ি, অলিপুর, নতুনপাড়া, লালমাই, ঝিলতলি, মুসলিমপাড়া, ছেলাউজান ও শান্তিরহাট এলাকার বাগান মালিক ও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কাঁঠাল বিক্রি করতে আসছেন হেয়াকো বাজারে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ ট্রাক কাঁঠাল এখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।
পাইকাররা জানান, বর্তমানে প্রতিটি কাঁঠাল ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে কিনে আনুষাঙ্গিক খরচ যোগ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। মৌসুমী এ কাঁঠাল বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে এলাকার ৪০০ থেকে ৫০০ লোক পরিবহন ও বাজারজাতকরণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে মৌসুমের এ সময়ে কিছুটা হলেও বেকারত্বের হার কমে আসে এবং গ্রামাঞ্চলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
কাঁঠাল বাগান মালিক মানিকছড়ির শাকিল জানান, “আমার চারটি বাগান আছে। প্রতিবছর মে থেকে জুলাই পর্যন্ত বিক্রি করি। এবার ফলন কম হওয়ায় এক থেকে দুই লক্ষ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হবে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।”
নোয়াখালির কাঁঠাল ব্যবসায়ী জালাল আহমদ বলেন, “দামের কোন নির্দিষ্টতা নেই। তবে হাটে দালাল আর মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাইরের ক্রেতারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”
এ বিষয়ে হেয়াকো বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শালিক চৌধুরী রনি বলেন, “কাঁঠালের মৌসুম ঘিরে বাজারের অন্যান্য ব্যবসাও জমে ওঠে।”
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, “এ বছর ১২৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের ফলন হয়েছে। এখানকার টিলা ভূমির কাঁঠাল সুস্বাদু হওয়ায় বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।”
উপসংহার: এ বছর উৎপাদন কিছুটা কম হলেও মানিকছড়ি, গাড়িটানা, তিনট্যহরী, সাপমারা, হেয়াকো ও বাগানবাজার অঞ্চলে কাঁঠাল মৌসুম ঘিরে উৎসবের আমেজ আর অর্থনৈতিক গতি ফিরে এসেছে।