হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কুখ্যাত ডাকাত ঝিলকি ও তার তিন সহযোগী ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পরও অপরাধ থামেনি। তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত ডাকাত জুসেদ দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনতার হাতে আটক হয়ে কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ত জুসেদ। এতে পুরো এলাকা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পুরান ভাগ মহল্লায় একটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চালায় জুসেদ ও তার সহযোগীরা। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী জুসেদকে চিনে ফেলেন।
পরে এলাকাবাসী চারদিকে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে সকালবেলা মহল্লার ভেতর থেকে জুসেদকে আটক করতে সক্ষম হন। তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার পর উত্তেজিত জনতা গণধোলাই দেয়। পরে শত শত লোকজনের উপস্থিতিতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, আটককৃত জুসেদ (৩০) বানিয়াচং উপজেলার ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের মাদারীটুলা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ক্রসফায়ারে নিহত সাইফুল ইসলাম (৩৫) ওরফে ঝিলকির সহযোগী ছিলেন। ঝিলকি নিহত হওয়ার পরও জুসেদ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় এবং নতুন করে চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের সংগঠিত করে এলাকায় অপরাধ বাড়িয়ে তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, জুসেদ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিহ্নিত অপরাধীদের এনে বানিয়াচংয়ে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটাত। তার বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে জুসেদ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সম্প্রতি সাগরদিঘীর পূর্ব পাড় থেকে একটি মিশুক চুরির ঘটনায় আটক হয়ে কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
ডাকাত জুসেদকে থানায় সোপর্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।