মুজাহিদ।।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও মজলুম মানুষের নেতা আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী আজ সীতাকুণ্ডের ৭নং কুমিরা ইউনিয়নে ব্যাপক জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বিকেল পর্যন্ত চলে, যেখানে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের মন জয়ের চেষ্টা করেন।
জনসংযোগের মূল লক্ষ্য ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া
এই জনসংযোগের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের কাছে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’-র বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জনগণের সামনে তুলে ধরেন যে, দাঁড়িপাল্লা কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি ন্যায়, ইনসাফ, সততা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতীক। এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তিনি একটি উন্নত, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ সীতাকুণ্ড গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান।
কুমিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলি এবং হাট-বাজারে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় অনেক তরুণ-যুবক এবং বয়স্ক মানুষ তার সঙ্গে হাত মেলান এবং নিজেদের সমস্যার কথা খুলে বলেন। আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ধৈর্য সহকারে সবার কথা শোনেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের মাঝেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা আমি বুঝি। যদি আপনারা আমাকে সুযোগ দেন, আমি আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই, নেতা হিসেবে নয়।" তার এই আন্তরিক বক্তব্য উপস্থিত সকলের মন জয় করে নেয়।
ভবিষ্যৎ সীতাকুণ্ডের রূপরেখা: উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
জনসংযোগে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ভবিষ্যৎ সীতাকুণ্ডের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে যে সকল বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষার অভাবে ঝরে পড়তে না হয়। এছাড়া, শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে যাতে তারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মান বাড়ানো হবে। জনগণের জন্য সুলভ মূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা বৃদ্ধি করা হবে।
কর্সংস্থান সৃষ্টি: তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে তাদের জীবিকার জন্য সীতাকুণ্ড ছেড়ে যেতে না হয়। বিশেষ করে, সীতাকুণ্ড ও আকবরশাহর শিল্প-কারখানাগুলোতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করা হবে।
বকাঠামোগত উন্নয়ন: রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটানো হবে। সৈয়দপুর থেকে সলিমপুর পর্যন্ত বেড়িবাঁধকে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা: খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদেরকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রেখে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানান।
পর্যটন ও কৃষি খাতের প্রসার: পর্যটন স্থানগুলোকে নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব করে তোলা হবে। একইসাথে, কৃষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের ব্যবস্থা করা হবে।
আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, "সীতাকুণ্ডের জনগণের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন থাকলে আমরা একসঙ্গে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।"
জনসংযোগ শেষে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা ঘরে ঘরে গিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’-র পক্ষে ভোট চাইবেন এবং বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই জনসংযোগ কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন