বেনাপোলে ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাসুম হোসেনের নবনির্মিত বাড়ির কাজ তার প্রতিবেশি সাইফুল ইসলাম প্রতিহিংসাবশত বারবার আদালতে মামলা দিয়ে কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মাসুম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- ৭ বছর আগে ভবারবেড় ৮৮ নম্বর মৌজার আরএস দাগ নং ৬১২-এর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন। ৩ মাস পূর্বে ওই জমিতে পাকা ঘর নির্মাণকাজ শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তার প্রতিবেশি সাইফুল ইসলাম আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ কাজ স্থগিতের আদেশ দেন।
গত ৭ মার্চ শার্শা উপজেলা ভূমি অফিস তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযোগকারী পক্ষের দাবি অনুযায়ী সরকারি জমির সঙ্গে মাসুম হোসেনের ক্রয়কৃত জমির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি খাস জমির অংশ দীর্ঘদিন ধরে অন্য ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে এবং নালিশি জমিতে বিবাদীর কোনো দখল পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাসুম হোসেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ও ১৩৩ ধারাসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে।
মাসুম হোসেন বলেন- মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে সাইফুল ইসলাম। তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মাসুম হোসেন আরও বলেন, আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। একের পর এক মামলা ও অভিযোগের কারণে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, মাসুম হোসেন ৪১ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে শার্শা উপজেলা ভূমি অফিস।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

