এক শতাব্দী পর আবারও একটি বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এই গ্রহণ শুরু হবে। এতে দুই মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্যের আলো সম্পূর্ণ ঢেকে দেবে চাঁদ। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
কবে ও কোথায় দৃশ্যমান?
উত্তর ও পশ্চিম গোলার্ধের কয়েকটি অঞ্চল থেকে এটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যাবে। এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণে স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালের কিছু অংশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে যেতে দেখবেন। বিশেষ করে স্পেনের আইবেরীয় উপদ্বীপে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। উত্তর ও পূর্ব স্পেনের লিওন, ভায়াদোলিদ, জারাগোজা, তেরুয়েল এবং ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহরগুলো পূর্ণগ্রাসের সরাসরি পথেই অবস্থিত। স্পেনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে এবং স্থানভেদে তা প্রায় ১১০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা এই বলয়ের ঠিক বাইরে থাকলেও সেখান থেকে সূর্য প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়তে দেখা যাবে।
পার্শ্ববর্তী আকর্ষণ: একসঙ্গেই পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণের এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সঙ্গেই আকাশে যোগ দেবে বিখ্যাত ‘পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি’ (Perseid Meteor Shower)। গ্রহণ চলাকালে আলো আঁধারির খেলায় নৈশাকাশে জ্যান্ত হয়ে উঠবে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ডের আলোকচ্ছটা, যা এই ঘটনাটিকে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আরও বেশি অবিশ্বাস্য ও বিরল করে তুলেছে।
অনলাইনে লাইভ সম্প্রচার
যারা এই সূর্যগ্রহণের প্রত্যক্ষ বলয়ে অবস্থান করছেন না, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নাসা (NASA), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং দ্য ভার্চুয়াল টেলিস্কোপ প্রজেক্ট তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটে পুরো ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করবে। এর মাধ্যমে যেকোনো প্রান্ত থেকে বিনামূল্যে এইচডি কোয়ালিটিতে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদের আপেক্ষিক আকার প্রায় সমান দেখানোর কারণেই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ সম্ভব হয়। প্রতি বছর পৃথিবীতে আংশিক, বলয়গ্রাস বা পূর্ণগ্রাস মিলিয়ে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ হলেও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বেশ বিরল। গড়ে দেড় বছরে মাত্র একবার এমন পূর্ণগ্রাসের ঘটনা ঘটে থাকে।

