জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 22-মে-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সরাইল হাসপাতালের বেহাল দশা,চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত

জেলার সরাইল উপজেলার ০৯ টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার সরকারি একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চিকিৎসকের অভাবে নিজেই যেন এখন রোগী। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, কর্মচারী,চাহিদা মাফিক ঔষধ, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটে সুফল পাচ্ছনা দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভবনের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের ০৫ অগাস্টের পর নির্মানাধীন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানাভাবে জরুরি বিভাগ, চিকিৎসকের কক্ষের বারান্দা সহ প্যাথলজিকাল, ফার্মাসি, ওয়ার্ড, মেঝে সর্বত্রই ভর্তিকৃত  রোগীদের ঘেজাঘেজির দৃশ্য চোখে পড়ার মত।জানা গেছে, উক্ত হাসপাতালে কনসালটেন্ট সহ চিকিৎসকের ১৮টি,  নার্স এর ০৬ টি,  মেডিকেল  টেকনোলজিস্ট ০২ টি, ফিল্ডস্টাফ ১৫ টি,আদার্স ১৯ টি,  প্রেষণে থাকা পদসহ ৬০ টি পদ শুন্য রয়েছে। তবে প্রেষণে থাকায় কর্তৃপক্ষের মতে শুন্য পদের সংখ্যা ৫২ জন মাত্র।বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে মুন্নী বেগম (২৫),বড্ডা পাড়া, ইনকিলাবকে জানায়,হাসপাতালে ডাক্তারের অভাব আছে উপলব্ধি করা যায়,প্রচুর রোগীর মাঝে ডাক্তার ও নার্সের সেবা মোটামুটি সন্তোষজনক। মো,সেলিম (৫০) নোয়াগাও, সেবার মান সন্তোষজনক, সব ঔষধ হাসপাতালে পাওয়া যায় না,বাহিরথেকেও ঔষধ কিনতে হয়। মো,নাজির (৫৫),উচালিয়াপাড়া, হাসপাতালে সেলাইন পর্যাপ্ত পাওয়া যায় নার্সদের ডেকে আনতে হয়।  ডাক্তার এবং নার্সদের আরও আন্তরিক হওয়া উচিত।  শিশু রোগী রিফাত (০২) টিঘর, আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে,হাসপাতালে ঔষধ পাওয়া গেলেও বাহির হতে আনতে হয়,সেবার মান মোটামুটি। গাইনী বিভাগে বিগত মাসে ১৮ টি নরমাল ডেলিভারি  এবং ০২ সিজার হলেও  এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক নিয়মিত   উপস্থিত না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে জরুরি বিভাগ। আন্তঃবিভাগে রোগীদের অধিকাংশই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মত হাসপাতালে নেই কোন শিশু চিকিৎসক। জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুরা আসলে সাধারণ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়েই ফিরে যেতে হয় অন্যত্র। দালালদের খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।স্থানীয়রা জানান, সরাইলের একমাত্র  সরকারি ৫০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা এখনো সাধারণ রোগীরা পাচ্ছেনা। ডাক্তার এবং জনবলের অভাবে বেহাল দশা এই হাসপাতালের সাধারণ রোগীরা মানসম্মত  চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন ২৬ টি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিটিতে একজন চিকিৎসক, একজন সহকারী চিকিৎসক, (বর্তমানে পদটি বিলুপ্ত), একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন পিয়ন/ব্রাদার থাকার কথা।  সেক্ষেত্রে মাত্র ৪/৫ টি সেন্টারে ফার্মাসিস্ট এবং পিয়ন এবং বাকি সেন্টারগুলোতে শুধুমাত্র পিয়ন দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালানো হচ্ছে। কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে গেলে এই আজব চিত্র চোখে পড়ে। এই সেন্টারগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুধীজনরা আতংকিত।হাসপাতালটিতে মানসম্মত আলট্রা সনোগ্রাম মেশিন থাকলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না এই মেশিনটি। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন না থাকায় মান্ধাতা আমলের মেশিনে রোগীরা এক্সরে করতে উৎসাহবোধ করছেনা।এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন  জানান জনবলের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্থানাভাব। জরুরি ভিত্তিতে ০৫ অগাস্টের পর স্থগিত হয়ে যাওয়া ভবনের কাজ শুরু করা প্রয়োজন। হাসপাতালের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শুন্যপদ গুলো পুরণের লক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি সিভিলসার্জন মহোদয় অবহিত আছেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি জনবল সমস্যা নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে  নিরসন হবে।এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সরাইল হাসপাতালের বেহাল দশা,চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত, শুন্যপদ-  ৬০ টি।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি।
জেলার সরাইল উপজেলার ০৯ টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার সরকারি একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চিকিৎসকের অভাবে নিজেই যেন এখন রোগী। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, কর্মচারী,চাহিদা মাফিক ঔষধ, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটে সুফল পাচ্ছনা দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভবনের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের ০৫ অগাস্টের পর নির্মানাধীন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানাভাবে জরুরি বিভাগ, চিকিৎসকের কক্ষের বারান্দা সহ প্যাথলজিকাল, ফার্মাসি, ওয়ার্ড, মেঝে সর্বত্রই ভর্তিকৃত  রোগীদের ঘেজাঘেজির দৃশ্য চোখে পড়ার মত।জানা গেছে, উক্ত হাসপাতালে কনসালটেন্ট সহ চিকিৎসকের ১৮টি,  নার্স এর ০৬ টি,  মেডিকেল  টেকনোলজিস্ট ০২ টি, ফিল্ডস্টাফ ১৫ টি,আদার্স ১৯ টি,  প্রেষণে থাকা পদসহ ৬০ টি পদ শুন্য রয়েছে। তবে প্রেষণে থাকায় কর্তৃপক্ষের মতে শুন্য পদের সংখ্যা ৫২ জন মাত্র।বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে মুন্নী বেগম (২৫),বড্ডা পাড়া, ইনকিলাবকে জানায়,হাসপাতালে ডাক্তারের অভাব আছে উপলব্ধি করা যায়,প্রচুর রোগীর মাঝে ডাক্তার ও নার্সের সেবা মোটামুটি সন্তোষজনক। মো,সেলিম (৫০) নোয়াগাও, সেবার মান সন্তোষজনক, সব ঔষধ হাসপাতালে পাওয়া যায় না,বাহিরথেকেও ঔষধ কিনতে হয়। মো,নাজির (৫৫),উচালিয়াপাড়া, হাসপাতালে সেলাইন পর্যাপ্ত পাওয়া যায় নার্সদের ডেকে আনতে হয়।  ডাক্তার এবং নার্সদের আরও আন্তরিক হওয়া উচিত।  শিশু রোগী রিফাত (০২) টিঘর, আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে,হাসপাতালে ঔষধ পাওয়া গেলেও বাহির হতে আনতে হয়,সেবার মান মোটামুটি। গাইনী বিভাগে বিগত মাসে ১৮ টি নরমাল ডেলিভারি  এবং ০২ সিজার হলেও  এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক নিয়মিত   উপস্থিত না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে জরুরি বিভাগ। আন্তঃবিভাগে রোগীদের অধিকাংশই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মত হাসপাতালে নেই কোন শিশু চিকিৎসক। জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুরা আসলে সাধারণ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়েই ফিরে যেতে হয় অন্যত্র। দালালদের খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।স্থানীয়রা জানান, সরাইলের একমাত্র  সরকারি ৫০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা এখনো সাধারণ রোগীরা পাচ্ছেনা। ডাক্তার এবং জনবলের অভাবে বেহাল দশা এই হাসপাতালের সাধারণ রোগীরা মানসম্মত  চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন ২৬ টি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিটিতে একজন চিকিৎসক, একজন সহকারী চিকিৎসক, (বর্তমানে পদটি বিলুপ্ত), একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন পিয়ন/ব্রাদার থাকার কথা।  সেক্ষেত্রে মাত্র ৪/৫ টি সেন্টারে ফার্মাসিস্ট এবং পিয়ন এবং বাকি সেন্টারগুলোতে শুধুমাত্র পিয়ন দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালানো হচ্ছে। কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে গেলে এই আজব চিত্র চোখে পড়ে। এই সেন্টারগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুধীজনরা আতংকিত।হাসপাতালটিতে মানসম্মত আলট্রা সনোগ্রাম মেশিন থাকলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না এই মেশিনটি। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন না থাকায় মান্ধাতা আমলের মেশিনে রোগীরা এক্সরে করতে উৎসাহবোধ করছেনা।এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন  জানান জনবলের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্থানাভাব। জরুরি ভিত্তিতে ০৫ অগাস্টের পর স্থগিত হয়ে যাওয়া ভবনের কাজ শুরু করা প্রয়োজন। হাসপাতালের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শুন্যপদ গুলো পুরণের লক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি সিভিলসার্জন মহোদয় অবহিত আছেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি জনবল সমস্যা নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে  নিরসন হবে।এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিলসার্জন ডাঃ মো, নোমান মিয়া  বলেন , সমস্যার বিষয়টি অবহিত আছি। দ্রুত শুন্যপদগুলো পুরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি এবং কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।  আশা করছি, স্বল্পসময়ের মধ্যে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদের জনবল  বৃদ্ধি পাবে এবং সমস্যা লাঘব ঘটবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে তিনি বলেন চিকিৎসক না থাকায় সেখানে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে রানওয়ে বাজারে নির্বাচনী পরামর্শ সভা

1

গাইবান্ধায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক ব

2

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শেরপুরের কল্যাণী বধ্যভূমি ও গণ-কবরে পু

3

ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলা ও প্রচারণায় ব

4

মুরাদনগর ধামঘর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে কায়কোবাদের পক্ষে বিএন

5

উচ্চপদস্থ চাকরির মায়া ত্যাগ উদ্যোক্তা হলেন ভাঙ্গুড়ার কৃষিবি

6

জামায়াত নেতাকর্মীরা দেশেই ছিলেন, মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি :

7

বরিশাল সদর তাঁতীদলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়

8

নিয়ামতপুরে সরিষার হলুদ হাসি, স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

9

টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাবুকে বহিষ্কার

10

জাতীয়তাবাদী যুবদলের উপজেলা শাখার আংশিক কমেটি ঘোষণা

11

চরভদ্রাসনে ৫০ জন দুস্থ মহিলার মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন

12

বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে বিদ্যুৎ শকে অসংখ্য অতিথি পা

13

আমীরে জামায়াতের জনসভা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের সাংব

14

জবাবদিহির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাবিপ্রবি উপাচার্য

15

পিরোজপুর-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেলেন আহমেদ সোহেল মঞ্জু স

16

ঝিনাইদহে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

17

মৌলভীবাজারের শেরপুর শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল

18

কালিয়াকৈরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

19

বগুড়ায় শ্রমিক দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামন

20