মোঃ সোলায়মান হোসেন
প্রকাশঃ 22-মে-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ডিসেম্বরেই নির্বাচন হওয়া উচিত মনে করেন সেনাপ্রধান

বাংলাশেদ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মানবিক করিডরের নামে স্পর্শকাতর-ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার বর্তমান সরকারের নেই।  এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে। এটি হতে হবে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। করিডোরের ব্যাপারে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়ও এখানে যুক্ত।
বুধবার (১৯ মে ২০২৫ ইং) সকালে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় (অফিসার্স অ্যাড্রেস) সেনাবাহিনী প্রধান এসব কথা ব্যক্ত করেন । সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায় । তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, করিডর বিষয়ে সরকার কি ভাবছে অথবা জাতিকে একটি প্রক্সি যুদ্ধের  দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিনা- এই বিষয়ে সরকার স্পষ্টভাবে কিছুই জানাচ্ছে না। অনুষ্ঠানের পরের অংশে একজন অফিসারের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘There will be no corridor’।
কর্তব্যরত ব্যতীত দেশের সব সেনানিবাস ও জাতিসংঘ মিশনে মোতায়েন সকল সেনা অফিসার এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। প্রথম অংশে সেনাপ্রধান অফিসারদের উদ্দেশে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রায় আধা ঘণ্টার মতো বক্তব্য রাখেন এবং এরপর প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অফিসারদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রাথমিক বক্তব্যে নিরলসভাবে কাজ করে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে অভিবাদন জানান তিনি। তবে বিভিন্ন কারণে দেশের শান্তি শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেন জেনারেল ওয়াকা-উজ-জ্জামান
সার্বিকভাবে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সময়ের সাথে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসনসহ সব সংস্থা ভেঙে পড়েছে এবং পুনর্গঠিত হতে পারছে না। শুধু সশস্ত্রবাহিনী এখনও পর্যন্ত টিকে আছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর হতে আজ পর্যন্ত দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সেনাবাহিনীর অক্লান্ত ও নিঃস্বার্থ ভূমিকা সত্বেও বিভিন্ন মহল হতে সেনাবাহিনী ও সেনা প্রধানকে টার্গেট করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল গুলো পরিস্থিতিকে আরও অবনতি ঘটাতে যাচ্ছে যাতে করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে। জাতিসংঘ কর্তৃক জুলাই-আগস্ট বিষয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর কোন বক্তব্য নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও বর্তমান সরকার সে সুযোগ দেয়নি।

সেনাপ্রধান বলেন, সংস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বা কীভাবে নিচ্ছে সে বিষয়ে দেশবাসীর পাশাপাশি তিনি এবং সেনাবাহিনী অবগত নন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে বারংবার সরকারকে অনুরোধ করেছেন। তবে সরকার অনুরূপ সংস্কারের বিষয়ে সত্যিকার অর্থে সিরিয়াস নয়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার এই সরকারের নেই। একের পর এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়েও সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
গত ২০ মে রাতে অনুষ্ঠিত সভার পূর্ব রাতে সেনা ভবনে কোন গোপন সভা হয়েছিল কিনা, এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হন বলে সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সেনাপ্রধান যে কোন সময়ে অর্পিত দায়িত্বের খাতিরে সভা আয়োজন করতে পারেন এবং এছাড়া সেনাপ্রধান কে যে সাংবিধানিক অধিকার দেয়া আছে, তাতে করে তার কোন ষড়যন্ত্রমূলক সভা করার প্রয়োজনীয়তা নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশ ও জনগণের কোনরকম ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবে না এবং কাউকেই এমন কোন কাজ করতে দেবে না।
গত নয় মাস ধরে সেনাপ্রধান হিসেবে অভিভাবকহীন হয়ে রয়েছেন বলে তিনি বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেন। একটি চাতক পাখির মতো একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। একটি নির্বাচিত সরকার সেনাবাহিনীর জন্য অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং যার ফলশ্রুতিতে সার্বিকভাবে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে জানান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
তিনি বলেন, যথা শিগগিরই সম্ভব একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনুষ্ঠানের পরের অংশে এক অফিসারের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘An elected government will take over on 1 Jan 26, if not earlier’। আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে সততার সাথে নিরপেক্ষ থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবার জন্য ও তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন।
এতো দীর্ঘ সময় ধরে সেনা সদস্যবৃন্দ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়ন রয়েছে যা সার্বিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই তিনি একটি নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর যথা শিগগির সম্ভব সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেবেন বলে উল্লেখ করেন। এটা না করতে পারলে বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী অঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি সকলকে অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ কর্তব্য পরায়ণতা ও আনুগত্যের সাথে পালন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে এক অফিসারের প্রশ্নের উত্তরে তিনি মজলুমদের অশ্রুজল যাতে না ঝরে এবং মজলুমদের অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এলপিজি সংকটে বাসাবাড়িতে চুলা নিভে গেছে, ভোগান্তিতে ভোক্তারা

1

গাবতলীতে ডিসির সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের সাথে মতবিনিময়

2

বগুড়ার ধুনটে নির্মাণ শ্রমিকের আত্মহত্যা

3

মীরসরাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

4

মাদারীপুর-৩ আসনে ড. কাজী আবুল বাসারকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে এল

5

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজ ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের ঠাঁই নেই

6

পাবনার ফরিদপুরে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় প্রধান শিক্ষকের বিদায়

7

নিরাপত্তা শঙ্কায় নির্বাচন না করার ঘোষণা মাসুদুজ্জামানের

8

সেনা অভিযানে ৫ লাখ টাকাসহ ১০মাদক কারবারি গ্রেফতার

9

গোপালগঞ্জে অভাবের তাড়নায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

10

মানিকগঞ্জে অটোরিকশা চোর গ্রেফতার

11

মনিরামপুরে সাবেক আ’লীগ নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘিরে বিতর্

12

নাব্য সংকটে দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট বন্ধ ঘোষণা

13

চকরিয়ায় গ্রামীণ ব্যাংক কেন্দ্র প্রধান কর্মশালা ২০২৫ অনুষ্

14

শান্তিগঞ্জ উপজেলা জমিয়ত যুব জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়ত এর মতবিনিময়

15

ভুঞাপুরে বালঘাট দখল নিয়ে বিএনপি'র দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

16

ভাঙ্গুড়ায় ডাকাতি ঠেকাতে বাঁশের বেড়িকেট ভরসা

17

কালিগঞ্জে কৃষকের অন্তরালে সার সিন্ডিকেট

18

সরকার এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি-রাশেদ

19

সাদুল্লাপুর কে. এম পাইলট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবকাঠা

20