ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ১১টি অস্থায়ী গবাদিপশুর হাট বসানো হচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবার প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে হাটগুলোর ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (২১ মে ২০২৫) দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়ার নেতৃত্বে এই ইজারা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিএনপি, এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী আনদোলনের কর্মী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে টেন্ডার বক্স খুলে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ বছর ১১টি পশুর হাটের ইজারা নিতে ৪২টি সিডিউল বিক্রি করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে যে ৮টি হাটের ইজারা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে, সেগুলো হল : আগানগর খেলার মাঠ – আরসাদ রহমান সপু (১ কোটি ৭০ লাখ টাকা),মিলেনিয়াম সিটি সংলগ্ন বালুর মাঠ – রাব্বি আহমেদ বকুল (৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকা),জিনজিরা পশু হাট – মোজাদ্দেদ আলী বাবু (১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা),
খাড়াকান্দি বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠ – আবু দাউদ সিকদার (২ লাখ টাকা),নতুন সোনাকান্দা পশু হাট – শাহাবুদ্দিন মেম্বার (৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা),
রাজাবাড়ি সংলগ্ন পতিত জমি – জাহাঙ্গীর কবির (৩০ হাজার টাকা),রসুলপুর বালুর মাঠ – ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম (৪ লাখ ২০ হাজার টাকা),হাসনাবাদ বালুর মাঠ – সেলিম মেম্বার (৬১ লাখ টাকা)
এই ৮টি হাটের ইজারা থেকে সরকারীভাবে মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। বাকি ৩টি হাট—মোল্লা বাজারস্থ খালি মাঠ, মোল্লা বাজার পশুর হাট ও বাঘাশুর মাদ্রাসার পাশের মাঠের ইজারা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া জানান, "দীর্ঘদিন পর উন্মুক্তভাবে হাট-বাজারের ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। অংশগ্রহণকারীরাও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আগামীতেও আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।"
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তাইবুর রহমান প্রমুখ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিটি হাটে থাকবে ভেটেরিনারি টিম, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মন্তব্য করুন