সামনের বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের ভোটগুলো আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী বছর শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোট হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। এখানে বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না। জনগণের সমর্থন নিয়েই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে। তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র কিংবা গণতন্ত্র কোনোটাই শক্তিশালী হতে পারে না। উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা ও জনসেবার বড় অংশ পরিচালনা করে। বাংলাদেশেও এমন কাঠামো তৈরি করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ ক্ষমতা না দিলে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না। কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে স্থানীয় সরকার চালালে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব না। উন্নয়ন কাজে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করা দরকার। এতে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমিও একসময় পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সমস্যা আমি জানি। তাদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি দেশের জন্য ভালো না। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


