নিজেরাই হবেন প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে বাবুছড়া মুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন দীঘিনালা জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন মুঃ শায়খউদ্দীন সাকলাইন।
বাবুছড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৩ জন করে মোট ২৭ জন প্রশিক্ষণার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ডাঃ তিলক চাকমা।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা, আঘাত, রক্তপাত, অজ্ঞান হওয়া কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা যায়, সে বিষয়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ করা হয়।

এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আরও সক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলা। প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্থানীয় ব্যক্তিরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারলে গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি বা জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় জনগণ প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে অসচ্ছল রোগীরা পেয়েছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের সহায়তা।

দীঘিনালা জোনের এ ধরণের উদ্যোগ শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের ও আশপাশের মানুষের জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করার সক্ষমতা তৈরির একটি কার্যকর পদক্ষেপ। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করার এ উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে জনকল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি একটি সচেতন, সক্ষম ও স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নিজেরাই হবেন প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও