বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুল্যান্স সংকট চরম আকার ধারণ করছে স্থানীয়রা

দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই অ্যাম্বুল্যান্স। এতে জরুরি চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তি বাড়ছে, ক্ষোভ স্থানীয়দের। সরকারি এই হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুল্যান্সই প্রায় এক বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় জীবনঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বিকল্প যানবাহনের সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাম্বুল্যান্স সেবার ওপরই নির্ভর করতে হয়, কিন্তু সেটিই বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুল্যান্স না থাকলে রোগী সময়মতো চিকিৎসা পায় না, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে এই সেবার গুরুত্ব সমতলের তুলনায় অনেক বেশি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম জানান, হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুল্যান্সই সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। নতুন অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে অ্যাম্বুল্যান্স সরবরাহের সিদ্ধান্ত তার দপ্তরের আওতায় নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অচল অ্যাম্বুল্যান্স মেরামত অথবা নতুন অ্যাম্বুল্যান্স সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নিজেরাই হবেন প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও