বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন, প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন

বাগেরহাটের রামপালে প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছে একটি চীনা প্রতিনিধি দল।  সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা বিমানবন্দরের জন্য নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহের কথা জানান।
 বাগেরহাটের রামপালে প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ওই চীনা প্রতিনিধি দল।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের পাশে বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলার সমদূরত্বে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তখন প্রকল্পের জন্য ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং আংশিক ভূমি ভরাটের কাজও শেষ হয়।
তৎকালীন সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি বা দেশ এতে বিনিয়োগে আগ্রহ না দেখানোয় নির্মাণকাজ আর অগ্রসর হয়নি।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী বিমানবন্দর তৈরি হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লু ইকোনমি, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, পণ্য পরিবহন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর নির্মাণে চীন ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই আগ্রহের ধারাবাহিকতায় চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
পরিদর্শন শেষে চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্য মি. পিটার বলেন, ‘আমরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং এতে সন্তুষ্ট। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা আন্তরিক।’

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নিজেরাই হবেন প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়: দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও