দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। কিন্তু সেই উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনেই এখন গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। এক সময়ের সবুজে ঘেরা উদ্যানের মূল ফটকের এমন বীভৎস দৃশ্য কেবল পর্যটকদের জন্যই অস্বস্তিকর নয়, বরং এটি সরাসরি পরিবেশ আইন ও রাষ্ট্রের সম্পদের প্রতি চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ।
গত কয়েকদিন ধরেই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রাচীর ভেঙে ময়লা ফেলার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা এই দায়সারা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগের সুরাহা তো হয়নিই, বরং আজ বুধবার দেখা গেল, উদ্যানের মূল ফটকের ঠিক সামনেই নতুন করে ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে। যেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের সেই প্রতিবাদের কোনো তোয়াক্কাই করছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্যানের মতো সংরক্ষিত এলাকায় যেখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, সেখানে এমন নোংরা পরিবেশের কারণে পুরো এলাকাটি এখন দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটকদের সংখ্যা কমছে, তেমনি উদ্যানের ভেতরে থাকা জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই উদ্যানের পবিত্রতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু যারা এই দায়িত্বে অবহেলা করছেন এবং একের পর এক উদ্যানের সামনে ময়লার ভাগাড় তৈরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দ্রুত এই ময়লার স্তূপ সরিয়ে এলাকাটি পুনরায় পরিচ্ছন্ন এবং পর্যটনবান্ধব করার জন্য বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। অন্যথায়, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয়রা।


