নড়াইল শহরের মহিষখোলার সেই পরিচিত সড়ক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো এক পরিত্যক্ত ভূতুড়ে দালান। কালো হয়ে যাওয়া দেয়াল, ভাঙা জানলা আর চারদিকে শ্মশানের নীরবতা। অথচ দেড় বছর আগেও এই বাড়িটি ছিল নড়াইলের অলিখিত ‘ক্ষমতার সচিবালয়’। বলছি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সাবেক হুইপ মাশরাফি বিন মর্তুজার সেই স্বপ্নের বাড়ির কথা যেখানে একসময় দিনরাত চলত রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ, লবিং আর হাজারো মানুষের আনাগোনা, সেখানে আজ শুধুই হাহাকার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল মাশরাফির এই সাজানো ঘর। দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও, সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি; বরং সময়ের সাথে সাথে সেখানে জন্মেছে আগাছা আর জমেছে ধুলোর আস্তরণ।
বাড়ির প্রধান ফটকে এখন ঝুলছে মোটা শিকল আর তালা। এক সময় যে গেট দিয়ে দাপটের সাথে প্রবেশ করতেন আমলা, চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসনের বড় কর্তারা, সেই গেটের সামনে এখন ময়লার স্তূপ। এক সময়ের জমকালো গ্যারেজ, যেখানে সারি সারি দামি গাড়ি রাখা হতো, সেখানে এখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বুনো ঘাস।
এখনো অনেক দর্শনার্থী আসেন। তবে তারা আর মাশরাফির সাথে দেখা করতে আসেন না। কেউ আসেন কৌতূহল নিয়ে ধ্বংসস্তূপ দেখতে, কেউ বা মোবাইলে ছবি তোলেন বিষণ্ণ মনে। নড়াইলের মানুষের আবেগের প্রিয় ‘মাশরাফি’ আর রাজনীতিক ‘মাশরাফি’র দ্বন্দ্বে পুড়ে যাওয়া এই ইটের দেয়ালগুলো যেন এখন এক নীরব সাক্ষী।
সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছুই বদলে যায়। কিন্তু নড়াইলের মহিষখোলার এই বাড়িটি কি কোনোদিন আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে? নাকি অযত্ন আর অবহেলায় ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায় হয়ে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবে?


