রবিবার,২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এবারের বাজেট তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ গড়ার সাহসী পরিকল্পনা: হুইপ বকুল

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক সাহসী পরিকল্পনা’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ উল্লেখ করে হুইপ বকুল বলেন, সংসদে এই বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কেউ বলেছেন এটি উচ্চাভিলাষী, কেউ বলেছেন বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কিন্তু আমি বলতে চাই, এই বাজেট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক সাহসী পরিকল্পনা।

রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন এবং খাদ্য রফতানি শুরু করেছিলেন, তেমনি খালেদা জিয়াও বাংলাদেশকে একটি ইমার্জিং টাইগারে পরিণত করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি মজবুত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এই বাজেট ঘোষণা করেছেন।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইংরেজিতে একটি কথা আছে—‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় প্রমাণ করেছে, তারা যা বলে তা বাস্তবে করে দেখায়। ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হয়েছে এবং দরিদ্র নারীদের স্বনির্ভর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষক কার্ডসহ যুগান্তকারী ‘খাল খনন কর্মসূচি’ দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মানুষ নতুন এক জিয়াউর রহমানকে দেখতে পাচ্ছে।

নিজের নির্বাচনি এলাকা খুলনা-৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা) প্রসঙ্গে হুইপ বকুল বলেন, ‘এটি একটি শিল্পাঞ্চল। কিন্তু এখানকার নিউজপ্রিন্ট মিল, জুট মিল, হার্ডবোর্ড মিলসহ অসংখ্য কলকারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি অবিলম্বে এসব মিল চালু করা অথবা সেখানে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করে বেকার হয়ে পড়া ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নিজ এলাকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও এই এলাকায় কোনো চিকিৎসাসেবার হাসপাতাল নেই। তিনি দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবায়ন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মহিলা ক্যাডেট কলেজ স্থাপন এবং এলাকার বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন