মাগুরায় স্বাস্থ্য খাতের আড়ালে রূঢ় বাস্তবতার জাল: ভুয়া চিকিৎসক টিটো ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সিন্ডিকেটের প্রতারণা

মাগুরার স্বাস্থ্য খাতকে জিম্মি করে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। শত্রুজিৎপুর বাজার থেকে শুরু করে কেশব মোড়ের তথাকথিত ‘পপুলার’ ডায়াগনস্টিক—সবখানেই চলছে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম ছিনিমিনি খেলা। ভুয়া ডাক্তার টিটো হোসেন ও তার সহযোগীদের অপচিকিৎসা এবং ভয়ংকর জালিয়াতির কারণে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ।সম্প্রতি শত্রুজিৎপুর বাজারের ল্যাব মেডিকেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক দরিদ্র ভ্যানচালকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা এই প্রতারণার ভয়ংকর চিত্র উন্মোচন করেছে। ভ্যানচালক হোসেন ফকিরের মুখের চোয়াল বাঁকা হওয়ার মতো সাধারণ সমস্যাকে পুঁজি করে নিজেকে মাগুরা সদর হাসপাতালের ‘বড় ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় দেন টিটো হোসেন (ডিএমএফ)। কোনো ধরনের বৈধ ডাক্তারি সনদ বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই তিনি কম্পিউটারে সিল-স্বাক্ষরবিহীন মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে হাতিয়ে নেন ১৭ হাজার টাকা। নরসিংদীর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ভাঙিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও ভুয়া টেস্ট এবং ৯ হাজার টাকার ইনজেকশন পুশ করার পরও যখন রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন মাগুরা ল্যাবএইড লি.-এর এমবিবিএস বিশেষজ্ঞ ডা. এম এম এহসানুল হকের শরণাপন্ন হন রোগী। সে সময় মাত্র সাড়ে সাতশ টাকার ওষুধ খেয়েই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। অথচ এর আগে মুখের প্যারালাইসিস রোগীকে পাছার মাংস কেটে ঢাকার ল্যাবে পাঠানোর নামে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো অমানবিক জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।​অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মাগুরা কেশব মোড়ে অবস্থিত তথাকথিত ‘পপুলার’ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুই ভাই মিলে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। টিটো হোসেন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে ও তাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের মিথ্যা প্রভাব দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। মর্তুজাপুর গ্রামের এই প্রতারক স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন তার হাতুড়ে চিকিৎসা ব্যবসা।
​ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, খোদ গণমাধ্যমকর্মীদের সন্তানও এই চক্রের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন। সন্তানের তীব্র জ্বরের সময় হাসপাতালে না এনে বারবার মনগড়া টেস্ট করানোর চাপ সৃষ্টি এবং চেম্বারে ডেকে ফ্রি চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে পকেট কাটার ফাঁদ পেতেছিল এই প্রতারক। পরবর্তীতে প্রকৃত চিকিৎসকের পরামর্শে সেই ভুল চিকিৎসা ধরা পড়ে।​সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে এই মরণখেলা কোনোভাবেই চলতে পারে না। অবিলম্বে ভুয়া চিকিৎসক টিটো হোসেন ও তার সহযোগীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা এবং শত্রুজিৎপুর ল্যাব মেডিকেল ও কেশব মোড়ের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মাগুরার শ্রীপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে মৎস্য খামারীদের সাথে মতবিনিময় সভা, রচনা,কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

“রূপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে