সিরাজগঞ্জের উত্তর জনপদের যমুনা নদীবেষ্টিত কাজিপুর উপজেলা। এই উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন, ১ টি পৌরসভা এবং সিরাজগঞ্জ সদরের ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন গঠিত। ১৯৯১ পর থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল এ আসনে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি। একই পরিবার বার বার নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির কারণেই কাল হয়ে দাড়িয়েছিল কাজিপুরের রাজনীতিতে। ছাত্র জনতা ঐকবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে স্বৈরাচারী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে কাজিপুর উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বেশ কিছু বিশৃঙ্খলা ও গ্রুপিং সৃষ্টি হয় সাময়িক সময়ের জন্য চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ে!
বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে কাঁদাছোড়াছোড়ি শুরু হয়। একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায় কাজিপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতি!!
এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে বলতে থাকে! আধিপত্য বিস্তার করতে সকলেই মরিয়া হয়ে উঠে। শুরু হয় বিগত দিনের নিজেদের অবস্থান বা দলের জন্য অবদানের ইতিহাস।তৃনমুলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় এবং দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পতিত হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগেই বিষয়টি উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান বিএনপির স্হায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাহেবের এর নজরে আসলে তিনি কাজিপুরের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে জেলা বিএনপির নেতৃত্বকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তার নির্দেশেই কাজিপুর উপজেলা বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বকে ডেকে একসাথে এক টেবিলে বসে আলোচনা করে কাজ শুরু করে। তিনি কাজিপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজিপুরের মাটিতে জনসমাবেশ করার জন্য বলেন।
জনসমাবেশ তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সাহেব সহ সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সকল নেতৃত্ব উপস্থিত থাকার কথা বলেন। যার ফলশ্রুতিতে কাজিপুর উপজেলায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়।
কাজীপুর উপজেলা বিএনপি'র মধ্যে থাকা সকল গ্রুপিং বন্ধ হয়ে যায়। নেতা কর্মীদের মধ্যে থাকা সকল মান-অভিমান, মতভেদ মতপার্থক্যে ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি নেয় এবং সমাবেশকে সাফল্যমন্ডিত করার লক্ষ্য নিয়ে সকলেই একযোগে কাজ শুরু করে দেয়।সমাবেশকে সফল করতে একাধিকবার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ তারিখের সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেই ঐক্যবদ্ধতা আরোও জোরালো হয়, যার ফলশ্রুতিতে কাজিপুরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয় কাজিপুর উপজেলা বিএনপির কর্তৃক আয়োজিত জনসমাবেশে।জনসমাবেশ পরিনত হয় জনসমুদ্রে।সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীরা মান-অভিমান মতানৈক্য ভুলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়
এরপর থেকেই বিএনপির নেতা কর্মীরা নতুন উদ্যমে উজ্জীবিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। যে কাজিপুরে কেউ কখনোই ঐক্যবদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা একসাথে বসে দলীয় কাজ করার কথাও চিন্তা করত না!! সেই কাজিপুরে টুকু সাহেবের এক ম্যাজিকেই সকলেই সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় কাজ শুরু করেছেন।
যা আগামীদিনে কাজিপুরের মাটিতে বিএনপির রাজনীতিতে সুফল বয়ে আনবে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাহেবের এক সাহসী সময় উপযোগী সিদ্ধান্তই বিভক্ত হওয়া কাজিপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
টুকু ম্যাজিকেই চেইন অফ কমান্ড ও ঐক্যবদ্ধতা ফিরে আসে কাজিপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে যা সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন