জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 25-মে-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার  কার্পাসডাঙ্গায় জমিদার মইন সরকারের বাড়িতে শত বছর আগে সপরিবারে এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বিটিশ বিরোধী আন্দোলন সময় কার্পাসদাঙ্গার জমিদার মহিন সরকারের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রায় দুই মাস এখানে অবস্থান থাকাকালীন কার্পাসডাঙ্গায় খ্রিস্টান চার্জ অব বাংলাদেশ এর নিচে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদীর ঘাটলায় বসে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন লিচুচোর, ‘কলসী গেল ডুবে’কোন কূলে আজ ভিড়লো তরী এ কোন সোনার গাঁয়’ ও ‘পদ্ম গোখরো’  কবিতা,গান, উপন্যাস গল্প  ও নাটক । 
প্রতিবছরে স্থানীয়রা জন্ম ও  মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলেও বিগত  প্রশাসন ও স্থানীয়রা। 
শতবর্ষে যত্ন তত্ত্বভাবে পড়ে আছে স্মৃতি বিজড়িত স্থান। ২০১৬ সালে  কার্পাসডাঙ্গা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত ৮ চালা ঘরে পশে তৈরি হয় স্মৃতিস্তম। ২০২১ সালে কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত  আটচালা ঘর, ২ বাস ও কাঠের ধানের গোলা ও ভৈরব নদীর ঘাটলার সিঁড়ি  কিছুটা সংস্করণ করা হয়। আটচালা ঘরটি মালিকানা হওয়ায় তার পরিবারের ও পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় বিদ্রোহী কবি কাজী কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমীরা কার্পাসডাঙ্গায় কবির নামে একটি হাসপাতাল, নজরুল গবেষণা ইনস্টিটিউট ও নজরুল পাঠাগার মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানিয়েছেন । 
 অনুসন্ধানে জানা গেছে,বিদ্রোহ ও তারুণ্যের কবি আমাদের কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলাকাব্যে ধুমকেতুর মতোই তার আবির্ভাব। কবি বিদ্রোহ করেছিলেন সকল অন্যায়, অসত্য, শোষণ-নির্যাতন আর দুঃখ-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। কবিতা লেখার অপরাধে কারারুদ্ধ হন। বন্দি করেও থামানো যায়নি তার লেখা। চরম আর্থিক অনটন আর দুঃখ-দারিদ্র্যেও তার বাল্যকাল কাটে বলে তাকে সবাই দুখু মিয়া বলে ডাকতো। কবি ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১২ সালে কবি আসানসোলের একটি হোটেলে স্বল্প বেতনে কাজ করতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কবি পরিবারকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ১৯৭২ সালে এবং কবিকে জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন। তিনি প্রায় চার হাজারের মতো গান রচনা করেন। তার লেখা গান আজও খুব জনপ্রিয়। আমাদের রণ সংগীত ‘চল চল চল’ এর রচয়িতা তিনি। গনমানুষের এই কবি চিরকাল আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।’ 
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জমিদার মইন সরকারের বাড়িতে সপরিবারে এসেছিলেন। সাথে ছিলেন  স্ত্রী প্রমীলা, বড় ছেলে বুলবুল ও শাশুড়ি গিরিবালা।  কার্পাসডাঙ্গায় প্রায় দু’মাস অবস্থানকালীন কবি অবসর সময়ে মিশন স্কুলের বাগান সংলগ্ন ভৈরব নদীর নঘাটের শান বাঁধানো সিঁড়িতে বসে রচনা করেছেন অনেক গান, কবিতা ও প্রবন্ধ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, লিচুচোর, ‘কলসী গেল ডুবে’, কোন কূলে আজ ভিড়লো তরী এ কোন সোনার গাঁয়’ ও ‘পদ্ম গোখরো’ ব্যথারদান  ইত্যাদি। জাতীয় কবির স্পর্শ ধন্য সেই ভৈরব নদী পাড়ের স্নানঘাটের সিঁড়িটির অংশ বিশেষ এখনো বিদ্যমান আছে।
১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে কবি কার্পাসডাঙ্গায় দীর্ঘসময় অবস্থান করেন। ওই সময় কার্পাসডাঙ্গার ভৈরব নদের তীরে বসেই সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রচনা করেছেন। টানা দুই মাস তিনি আটচালা ঘরটিতে ছিলেন। তিনি থাকতেন হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের আটচালা ঘরে। হর্ষপ্রিয় ছিলেন তৎকালীন নদীয়া কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। এখন তাঁর উত্তরসূরিরা নিজ অর্থ ব্যয় করে নজরুলের স্মৃতিঘেরা বাড়িটি টিকিয়ে রেখেছেন। ১৯২৬ সালে বিপ্লবী হেমন্ত কুমার ও মহিম সরকারের আমন্ত্রণে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে সপরিবারে কার্পাসডাঙ্গায় আসেন। সে সময় ভারতবর্ষে চলছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। আন্দোলনের হাওয়া বয়ছিল কার্পাসডাঙ্গায়ও। কবি নজরুল গঠন করেছিলেন 'শ্রমিক প্রজা কৃষক পাটি'। মূলত স্বদেশি আন্দোলনের নেতাদের উৎসাহ দিতেই পার্টির পক্ষে কবি কার্পাসডাঙ্গায় আসেন। এখানকার জীবনযাত্রা ও পরিবেশ তাঁকে সাহিত্যকর্ম মৃত্যুক্ষুধা ও পদ্মগোখরো এবং লিচুচোর কবিতাসহ অনেক গান লিখতে সহায়ক হয়েছিল। স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িতে এখন থাকছেন হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের ছেলে প্রদ্যুত বিশ্বাসের দুই ছেলে-প্রকৃতি বিশ্বাস ওরফে বকুল বিশ্বাস ও মধু বিশ্বাস এখন ওই বাড়িতে থাকেন। যে ঘরে কবি থাকতেন সেই ঘরে সস্ত্রীক থাকেন বকুল বিশ্বাস। কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৯০ সালে কবির জন্মজয়ন্তী উৎসব পালন এবং নজরুল মেলাও বসেছিল এই কার্পাসডাঙ্গায়।২০১৬ সালে  কার্পাসডাঙ্গা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত ৮ চালা ঘরে পশে স্মৃতিস্তম তৈরি করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম । ২০২১ সালে কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত  আটচালা ঘর ও ভৈরব নদীর ঘাটলার সিঁড়ি  কিছুটা সংস্করণ করেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার। এছাড়া কার্পাসডাঙ্গায়  ইউনিয়ন পরিষদ মোড়ে একটি  নজরুল চত্বর করা হয়েছে। এই নজরুল চত্বর নির্মাণে কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করে স্থানীয়রা। 
এ বছরের কার্পাসডাঙ্গায় বিদ্রোহী ও জাতীয়  কবি কাজী নজরুল ইসলামের আসার শত বর্ষপূর্তি হবে। জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোঃ জহিরুল ইসলাম বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম প্রেমিকদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত  নির্দেশনা অনুযায়ী দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র দুইদিন ব্যাপী জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল রোববার কার্পাসডাঙ্গা নজরুল মঞ্চে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে  কবিতা আবৃতি সঙ্গীত ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬ তম জন্ম বার্ষিকী জাকমাভাবে পালন করা হবে। 
এ বিষয়ে আটচালা ঘরের মালিক প্রকৃতি বিশ্বাস বকুল বলেন, চুয়াডাঙ্গা ডিসি সাইমা ইউনূস থাকাকালীন  সময় আমার জমির অধিকরণের মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছিলেন। পরে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে কিন্তু এর বাস্তবায়নের কোন রূপ পায়নি। পরিবার নিয়ে ঘরে থাকি একটু সমস্যা হয়। 
কার্পাসডাঙ্গা নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক  জাহাঙ্গীর আলম টুটুল বলেন, নজরুল চত্বরে নির্মাণে বিগত সরকারের সময় অনিয়ম হয়েছে। একটা তদন্ত করার প্রয়োজন।ঘাটচালা বাড়িটি অধিকরণ করে সরকারিভাবে নজরুল ইনস্টিটিউট সহ উন্নয়ন ঘটানোর সম্ভব। 
কার্পাসডাঙ্গা নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের  সভাপতি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি  শামসুল আলম বলেন, কার্পাসডাঙ্গায় কবি নজরুল ইসলামের নামে একটি হাসপাতাল, নজরুল গবেষণা ইনস্টিটিউট ও নজরুল পাঠাগার মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানিয়েছেন । 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও কার্পাসডাঙ্গা জাতীয়  কবি নজরুল ইসলামের ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে  চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন দুইদিন ব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ 
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ  জহিরুল ইসলাম বলেন,  জাতীয়  কবি নজরুল ইসলামের ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। র‍্যালি আলোচনা সভা বিভিন্ন  প্রতিযোগিতা  পুরস্কার বিতরণী ও সংগীত অনুষ্ঠান মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে। কার্পাসডাঙ্গায় এখানে সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সেটি  যথাযথভাবে পালন করবে জেলা প্রশাসন ।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেনবাগে বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে "শিক্ষা বৃত্তি-

1

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন দাখিল

2

কালিয়াকৈরে নকল সন্দেশ কারখানা বন্ধ করল উপজেলা প্রশাসন

3

ফুলবাড়ীতে দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীতে ১০টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে ব

4

ওসমান হাদির গ্রামের বাড়িতে চুরি

5

ধরা-ছোঁয়ার বাইরে বান্দরবানের ফ্যাসিস্ট সাম্রাজ্য

6

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেলদুয়ারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে

7

মাদ্রাসা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু

8

রাজৈরের বড়ব্রীজে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

9

চট্টগ্রামে তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বদল সালাউদ্দিনের পরিব

10

ঝিনাইদহে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে হামলা

11

শিবচরে ‘রয়েল ইকো ভ্যালি’ প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময়

12

জাফলং থেকে সিলেটগামী গেইটলক বাসে ৬ বোতল অবৈধ ভারতীয় মদসহ একজ

13

টানা ৩ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

14

অদম্য নারীদের সংবর্ধনায় অনুপ্রেরণামুখর আয়োজন নান্দাইলে

15

মনোহরদীতে হিফজুল কোরআন মডেল মাদরাসার হাফেজ শিক্ষার্থীদের পাগ

16

ইসকন নিষিদ্ধের দাবীতে কুমিল্লার চান্দিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল

17

সরাইলে ঝুঁকি নিয়ে ৩ বছর ধরে ভাঙ্গা সেতুতে ১০ হাজার লোকের পার

18

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের নির্বাচন

19

ফুলবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট জব্দ

20