জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 6-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আজ ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস


 অরবিন্দ রায়

 ১৯৭১  সালে ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা গ্রামের সাধারন মানুষকে বাড়ি থেকে টেনে বের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে।  ৬ ডিসেম্বর  শনিবার ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস। দিবসটি এলেই এলাকায় নেমে আসে এলাকায় শোকের ছায়া। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৯দিন বাকি। দেশজুড়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তৎকালীন ঢাকার কালীগঞ্জ থানাধীন মধ্যে ঘোড়াশালের আঁটিয়াগাওয়ে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আঁটিয়াগাওয়ের আবুল কাসেমের বাড়িতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। আজো এই দিনটি এলে বিজয়ের মাসে এলাকাবাসী শোকে বিহবল হয় পড়ে।
কাসেম পরিবারসহ ঘরের ভিতর একটি মাটির গর্তে লুকিয়ে পড়ে। হানাদাররা বাড়ির বিভিন্ন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৩২ জন নারী পুরুষ শিশুকে উঠানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। আচমকা নরপিশাচদের আগ্নেয়াস্ত্র গর্জে উঠে। ঘটনাস্থলেই শহীদ হয় ১৮ জন, ৪ জন হয় মারাত্মকভাবে জখম। বাকিরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। মাটির গর্তে জ্ঞান হারায় আবুল কাসেম। তিনি প্রাণে বাঁচলেও ঐদিন শহীদ হয় আম্বিয়া খাতুন, মজিদা, আলিমুন বেগম, মালা বেগম, আকমন আলী, মোকছেদ আলী, শিশুপুত্রসহ আয়েশা বেগম, হযরত আলী, নেহাজ উদ্দিন, শাহাজদ্দিন, শাহাজাহান, রহম আলী,আ. হেকিমসহ আরো ৪ জন। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪বছর, আজ পর্যন্ত আবুল কাসেমের বাড়িতে ঘটে যাওয়া শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে আজো
নেওয়া হয়নি কোন সরকারি পদক্ষেপ। আবুল কাসেম পরলোকগমন করেন ৭ বছর হলো। মৃত্যুর আগে তিনি প্রায়ই আফসোস করে বলতেন কত সরকার আসলো গেল কেউই আমার বাড়ির এই ১৮ জন শহীদের নামে কোন একটি স্মৃতি ফলকও করে দিল না। আবুল কাসেমের ছেলে সাত্তার বাবুল বলেন আমি তখন ছোট হলেও সবই পরিষ্কার মনে আছে। আমাদের উঠানে ১৮ জনের মৃতদেহ আহতদের চিৎকারে আমরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। তবে আক্ষেপ আমাদের বাড়ির শহীদদের নামে স্মৃতি রক্ষার্থে কোনকিছু আজো হলো না।এমনকি শহীদ পরিবারের মর্যাদাটুকু পেলামনা। আমরা চাই বাড়ির পাশে ১৮ জন শহীদ যে 'গোরস্তানে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে, তাদের সম্মান রক্ষায় সরকারের পক্ষ হতে একটা কিছু হোক।
এদিকে শহীদদের গোরস্তানে ছবি তুলতে গেলে দেখা যায় নিরব নিথর এক গোরস্তান। তবে এলাকার সচেতন মহলের দাবী সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ   দ্রুতসময়ে এই ১৮ জন শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহল বা সরকার  দ্রুত উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানান । নতুন প্রজন্ম ঘোড়াশাল ট্রাজেডি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ঘোড়াশালের সাবেক কাউন্সিলর মো. রফিক ভূইয়া জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সবেমাত্র মাগরিবের আযান হয়েছে। হানাদার বাহিনী আবুল  কাসেমের বাড়ি দুইদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পাশাপাশি আসেপাশে ১০-১২টি বাড়িতে করে অগ্নিসংযোগ। ঘটনা আঁচ করতে পেরে আবুল


 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজগঞ্জে হাতপাখার এমপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন টিপুর গণসংযোগ

1

আদমদীঘিতে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী পালাক্রমে ধর্ষনের শিকার গ্রেপ্

2

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩০ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচ

3

মঠবাড়িয়ার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বদলি

4

নাসির নগরে বিএডিসির ১২০০ বস্তা ধান বীজ নিয়ে নৌকা ডুবি

5

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ন

6

বাঘাইছড়িতে ইয়াবাসহ আটক ৪

7

বড়লেখায় জোড়া খুন গুরুতর আহত ১

8

মাদকমুক্ত কাজিপুর গড়তে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা সেলিম রেজা

9

ওসমান হাদিকে বন্ধু সেজেই হত্যা করা হয়েছে

10

কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তাহীনতা

11

ধান কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

12

বিশ্বের ষষ্ঠ নিরাপদ দেশের তালিকায় কুয়েত

13

হলফনামা জমা দিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

14

রায়গঞ্জে কৃষকদের সঙ্গে সরিষা চাষের উপর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

15

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের অভিযানে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব

16

পাবনা-৩ আসনে এনসিপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা খন্দকার আকতার হোসে

17

সিরাজগঞ্জ–১ আসনে সেলিম রেজাকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে

18

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময়

19

টেকনাফে ৭৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ ২ মাদককারী আটক

20